behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

গরুর মাংসের কেজি ৩০০ টাকা করতে যা চান মাংস ব্যবসায়ীরা

আমানুর রহমান রনি১৯:৪৪, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

একটি মাংসের দোকানঢাকা শহরে এলাকা ভেদে গরুর মাংসের কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অনিয়ম দূর হলে এর চেয়ে অনেক কম দামে, ৩০০ টাকা কেজি দরেও গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব। তাদের অভিযোগ, এই খাতে দীর্ঘ দিন ধরে অনিয়মের কারণে গরুর মাংসের দাম এত বেড়ে গেছে। মাংস ব্যবসায়ীরা তাই চার দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি করি না। কিন্তু এখন ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গাবতলী গরুর বাজারে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত খাজনার বাইরে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়রের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছিলাম। তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আমাদের সঙ্গে সভা করে সমস্যার কথা শোনার পরামর্শ দেন। এরপর গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে আমাদের একটি সভা হয়। কিন্তু সভাটি অসমাপ্ত থেকে যায়। প্রধান নির্বাহী হুন্ডি ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে ওই সভার অবৈধ রেজোলিউশন তৈরি করেছেন। অবৈধভাবে গরুর হাট থেকে অতিরিক্ত খাজনা নিচ্ছেন তারা।’

নিজেদের দাবির বিষয়ে রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের চার দফা দাবি। এসব দাবি মানলে আমরা প্রতি কেজি ৩০০ টাকার কমেও মাংস খাওয়াতে পারবো।’

ঢাকা মহানগর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির চারটি দাবি হলো-

প্রথমত, গাবতলী গরু হাটের ইজারাদার সরকারের আদেশ অমান্য করে অতিরিক্ত যে খাজনা আদায় করে তা বন্ধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানাগুলো পুরোপুরি স্থানান্তরিত না হওয়ায় চামড়ার দাম কম। তাই ট্যানারিগুলো স্থানান্তর করতে হবে। যেসব কারখানা আমিন বাজারে স্থানান্তর করা হয়েছে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। যারা স্থানান্তর করেনি, তাদের হাজারীবাগের কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে।

তৃতীয়ত, মাংস ব্যবসায়ী ও গরু বেপারিরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে। ‘কাইলা মইজা’ নামে এক ব্যক্তি হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সর্দার। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সরকারকে বৈধভাবে ভারত থেকে গরু আমদানি করার প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। এছাড়া মিয়ানমার ও নেপাল থেকে গরু আমদানি করার জন্য সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে।   

চতুর্থত, ডিএনসিসি’র যেসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা গাবতলী গরু হাটের ইজারাদারকে অন্যায়ভাবে সহযোগিতা করছে, তাদের অপসারণ করতে হবে। এদের মধ্যে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী রয়েছেন। তাদের অপসরণ করে সৎ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই চারটি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট করছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার ধর্মঘটের পঞ্চম দিনেও ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারের মাংসের দোকান বন্ধ রয়েছে।

মাংস ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনে ধর্মঘটের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারেন বলে জানিয়েছেন রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা রবিবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দিবো, তার সঙ্গে কথা বলবো। এরপর সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গেও কথা বলবো। আপাতত আমাদের আন্দোলন স্থগিত রাখা হবে। তবে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খাজনা আদায়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে একটি মামলা করেছিলাম। কিন্তু আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমরা আন্দোলনে বাধ্য হয়েছি। আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট পালন করবো।’

এদিকে মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে মুরগির দামে। দেশি-ব্রয়লার সহ সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। ভিড় বেড়েছে সুপার শপগুলোতেও। তবে কোনও কোনও এলাকায় মাংসের দোকান খোলা রেখেছেন ব্যবসায়ীরা

 /এআরআর/এএআর/

 

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ