কেন আমি জনপ্রিয়: কাসেম বিন আবুবাকার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৮, এপ্রিল ২৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৪, এপ্রিল ২৭, ২০১৭

কাসেম বিন আবুবাকার (ছবি- এএফপি)কাসেম বিন আবুবাকার পশ্চিবঙ্গের হাওড়া এলাকা থেকে বাংলাদেশে আসেন ১৯৬৮ সালে। নিউমার্কেটের মল্লিক ব্রাদার্সে কাজ শুরু করেন। বইয়ের দোকানে থাকতে থাকতেই লিখতে শুরু করেন। সেই লেখা ইসলামি প্রেমের উপন্যাস হিসেবে বাজার সয়লাব হয়ে যায় আশির দশকে। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার একশটি বই প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে উপন্যাস ৮৫টি। আশি ও নব্বইয়ের দশকের হালকা প্রেমের চটুল গল্পের বইগুলো বিক্রিবাট্টার দিক থেকে তুঙ্গে পৌঁছে গেলেও একবিংশ শতাব্দীতে এসে আলোচনা থেকে হারিয়ে যান এই লেখক।
এরপর গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) হঠাৎ করেই বিদেশি গণমাধ্যমের সূত্র ধরে ফের দেশি অনলাইনগুলোতে আলোচনায় উঠে আসেন ৮০ বছর বয়সী কাসেম বিন আবুবাকার। হঠাৎই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে উঠতি তরুণ প্রজন্ম জানতে পারে, ইসলামি নাম দিয়ে লেখা প্রেমের উপন্যাসের এই লেখক একটা সময় অনেক ‘জনপ্রিয়’ ছিলেন। এই জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি নিজে কী মনে করেন, কিভাবে তিনি লেখক হয়ে উঠলেন— এসব নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। তিনি বিশ্বাস করেন, তার বই পড়ে অশালীন ছেলে-মেয়েরা শালীন প্রেমের উপায় খুঁজে পেয়েছিল।
আপনি কেন পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন, এ প্রশ্নের জবাবে কাসেম বলেন, ‘আমি মামুষকে মানুষ করতে চেয়েছি লেখার মধ্য দিয়ে। মুসলমান হয়ে চরিত্রহীন হলে চলবে না। আল্লাহর কথামতো যারা চলে না, তারা তো মুসলমান না। আমি মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে চেয়েছি বলে আমি জনপ্রিয়।’ কিন্তু ইসলামি উপন্যাস নামকরণের লেবাসে তার লেখা উপন্যাসে উঠে আসা বিষয়গুলো ইসলাম অনুমোদন করে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো ইসলামি উপন্যাস লিখিনি। আমি ইসলামি ভাবকে কাজে লাগিয়ে উপন্যাস লিখেছি। কোরআন-হাদিসের আলোকে রোমান্টিসিজমের কথা লিখেছি। প্রেম তো থাকবেই— ভাইয়ের সঙ্গে, মায়ের সঙ্গে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, বিয়ের আগে প্রেমিকের সঙ্গে। কিন্তু সেই প্রেম ভেঙে গেলে প্রেমিকাকে এসিড ছুড়তে হলে সেটা তো প্রেম না, সেটাকে বলে মোহ। আমার বইয়ের মধ্য দিয়ে আমি এগুলোই শেখাতে চেয়েছিলাম পাঠকদের। আর আমার লেখা এই শিক্ষামূলক বই সবাই পড়তে চেয়েছে বলেই আমি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছি।’
নিজের লেখা বই হাতে কাসেম বিন আবুবাকার (ছবি- এএফপি)বিয়ের আগে নর-নারীর প্রেম বিষয়ে ইসলাম কী বলে, জানতে চাইলে কাসেম বলেন, ‘না না, ইসলাম এটা অ্যালাউ করে না। তবে প্রেম ভালবাসা তো আটকে রাখার বিষয় না। কিন্তু এটাকেও সীমাবদ্ধ রাখা যায়। প্রেম-ভালোবাসা বন্ধ করতে পারবেন না। তাই আমি চাই, তারা এটা করুক। তবে তার মধ্যেও যেন শালীনতা থাকে। ছেলে-মেয়ে মিশবেই, কিন্তু কোন পর্যায়ের মেলামেশা ব্যাভিচারে পরিণত হয়, সেটা জানতে হবে।’
নিজের লেখালেখির শুরু বিষয়ে কাসেম বিন আবুবাকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি তখন মল্লিক ব্রাদার্সে চাকরি করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের বই কিনতে আসতে দেখতাম। তাদের অশালীনতা দেখে আমার খারাপ লাগত। সে কারণেই আমি চেষ্টা করেছি কিছু একটা করতে। তাদের শেখানোর দায়িত্ববোধ থেকে আমি হাতে কলম তুলে নেই। এদের যদি না শেখানো হয়, তাহলে নিম্নবিত্ত মানুষ তাদের কাছ থেকে কী শিখবে? ইসলামকে জানানোর জন্যই আমার কলম ধরা, অন্য কিছু না।’
পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া এই লেখক দাবি করেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাবুক। কোনোকিছুকেই হালকাভাবে দেখেন না তিনি, সবকিছু নিয়েই গভীরভাবে চিন্তা করেন। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসাও গভীর হতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রেম আল্লাহর দান। প্রেম থাকবেই, সবার প্রতি সবার।’
এখন আর লিখতে পারেন না কাসেম বিন আবুবাকার। এ কারণে মনোকষ্টও রয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমি আর লিখি না। বয়স হয়েছে। কিন্তু আমার পাঠকরা আমাকে এখনও লিখতে বলে। তারা চায় আমি লিখি।’
চার ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলের পাঠাগার আছে রাজধানীতে। সেখানেই মাঝে মধ্যে বসেন জানিয়ে কাসেম বলেন, ‘ওখানে বসলে এখনও নারীরা দেখা করতে আসে, যারা আমার কাছে অনেক কিছু শিখেছে।’

আরও পড়ুন-

প্রতিবেশী দেশগুলোকে বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

ম্যারাথনের ‘ফিনিশ লাইন’ পেরিয়ে যাওয়া এক ফিলিস্তিনির গল্প

/ইউআই/টিআর/

লাইভ

টপ