সাফাত-সাদমানের রিমান্ড আবেদনে যা বলা হয়েছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ মে ২০১৭, ১৭:৫৭আপডেট : ১২ মে ২০১৭, ১৯:৫৪

আদালতে সাফাত ও সাদমান (ছবি- ফোকাস বাংলা) সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের রিমান্ড চাওয়ার আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের  দুই শিক্ষার্থী ছাড়া আরও অনেক তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। তারা এই দুই শিক্ষার্থী ছাড়া আরও অনেক তরুণীকে জোর করে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

রিমান্ডের আবেদন পত্রে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা দুশ্চরিত্র। ইতোপূর্বে একইভাবে সরলমনা অনেক মেয়েকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই মামলার রহস্য উদঘাটনসহ এজাহার নামীয় আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। আসামিদের রিমান্ডে পেলে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে অন্যান্য পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করার সম্ভাবনা রয়েছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যেতে পারে।   

শুক্রবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সাফাত ও সাদমানকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের ইনস্পেক্টর ইসমত আরা এমি। শুনানি শেষে আদালত সাফাতের ছয় দিন ও সাদমানের পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ সদর দফতরের একটি বিশেষ টিম সিলেট পুলিশের সহযোগিতায় গত ১১ মে রাত ৯টার সময় সিলেটের জালালাবাদের মদিনা মার্কেটের রশিদ ভিলা থেকে  আসামিদের গ্রেফতার করে। পরে সেখান থেকে তাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

এরপর আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে ২৯ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত বনানীর রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে দুই তরুণীকে আটক রেখে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় তাদের রুমের মধ্যে নিয়ে জোরপূর্বক মদ্যপান করায়। পরে মামলার বাদীকে আসামি সাফাত আহমেদ ও বাদীর বান্ধবীকে নাইম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।

আবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেফতার হওয়া আসামি সাদমান সাকিফের সঙ্গে বাদীর দুই বছর আগে থেকে পরিচয় ছিল। ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে গুলশানের পিকাসো রেস্টুরেন্টে বাদী ও তার বান্ধবীর সঙ্গে সাদমান সাকিফের মাধ্যমে সাফাত আহমেদের পরিচয় হয়। এরপর জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত ২৮ মার্চ সাফাত আহমেদ তার গাড়ির ড্রাইভার বিল্লাল ও বডিগার্ড আবুল কালাম আজাদকে দিয়ে নিকেতনের বাসা থেকে বাদী ও তার বান্ধবীকে বনানীর রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই তরুণীকে বিভ্রান্ত করে এবং বাদীর অপর বন্ধু শাহরিয়ার ও অন্য একজন তরুণীকে আরেকটি কক্ষে আটকে রাখে। এরপর ৭০০ নম্বর কক্ষে নাইম আশরাফ বাদীর বান্ধবীকে এবং সাফাত বাদীকে রাতভর ধর্ষণ করে।

/এসআইটি/এসএমএন/জেইউ/ এপিএইচ/ এমএনএইচ/

আরও পড়ুন: 

মুখ লুকালো ‘ধর্ষকরা’

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি