রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শকসহ দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম সাত্তার (৩০)। তিনি ডিএমপির বাড্ডা থানায় কর্মরত ছিলেন। নিহত অন্যজন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সম্পা খাতুন (২৫)। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন এতথ্য জানান।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এসআই সাত্তার তার সরকারি অস্ত্র দিয়ে সম্পাকে গুলি করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন। প্রতিবেশীরা ওই বাসা থেকে দু’টি গুলির শব্দ পেয়েছেন বলেও পুলিশ জানায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। খবর পেয়ে ওই বাসায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়েছেন।’
মাসুদুর রহমান আরও বলেন, এসআই সাত্তারের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর নাম ববিতা খাতুন। তিনি আলাদা থাকেন। দ্বিতীয় নিহত সম্পা খাতুন। তার দুই স্ত্রী সম্পর্কে খালাতো বোন। ১ বছর আগে সম্পার সঙ্গে এসআই সাত্তারের বিয়ে হয়।’
পুলিশ সূত্র জানায়, সাত্তার এএসআই হিসেবে আগে পল্লবী থানায় কর্মরত ছিলেন। ঈদের আগে তিনি এসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বাড্ডা থানায় বদলি হয়ে যান। তবে তিনি রূপনগর আবাসিক এলাকার ২২ নম্বর সড়কের ৩২ নম্বর বাসার ৬ষ্ঠ তলায় আগের বাসাতেই থাকতেন।
মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, ‘ঘটনা বিকেল সাড়ে ৫টা। প্রতিবেশীরা দুই রাউন্ট গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সাড়ে পাঁচটার দিকে খবর পাই, ঘটনাস্থল পৌঁছার পর তাদের জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের দ্রুত ঢামেকে পাঠালে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসআই সাত্তারের প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম জনের বয়স ১০বছর ও দ্বিতীয়জনের বছর ৪ বছর।’
ঘটনাস্থলের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, দু’জনেই লাশই মেঝেতে পড়েছিল। পাশেই পড়েছিল সরকারি অস্ত্র। দুই রাউন্ড গুলির খোসাও পাওয়া গেছে। গুলি দু’জনেরই মাথায় লেগেছে। এসআই সাত্তারের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা থানার খাজুরিয়া গ্রামে। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ।’
/আরজে/এনএল/এমএনএইচ/








