‘রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে, তাতে বিরাগ বহন করছে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:১৯, আগস্ট ১৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৫, আগস্ট ১৯, ২০১৭

খায়রুল হককখনও কোনও বিচারপতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কিছু লিখতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তিনি বলেন,  ‘যদি লেখেন,তাহলে তার শপথ ভেঙে যায়। আর শপথ ভঙ্গ হলে কী হতে পারে, তা আপনারা ভালোই জানেন। শপথে বলা হয়, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে আমি কিছু করব না। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে, তাতে অনুরাগ না হোক, বিরাগ তো বহন করছে। ’ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় শোক দিবস, ষোড়শ সংশোধনী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

খায়রুল হক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি সবচেয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন সংসদকে অকার্যকর বলে। সংসদকে অকার্যকর বলা একজন জজের ভাষা হতে পারে না। জুডিশিয়াল ভাষা হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের ভাষা হতে পারে না।’ 

আইন কমিশনের প্রধান হিসেবে খায়রুল হক নিজে এসব বিষয়ে কথা বলতে পারেন কিনা, এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ল’ কমিশনে চাকরি করি। ল’ কমিশন কিন্তু এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে আইন নিয়েই আমাদের গবেষণা। আইনকে মনিটর করাও আমাদের আরেকটা কাজ। সে কারণে এটা তো আমাদের মনিটরিং করতে হবে সেটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক। ল’ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।’

শপথে কী থাকে, তা উল্লেখ করতে গিয়ে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে আমি কিছু করব না। কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে, তাতে অনুরাগ না হোক, বিরাগ তো বহন করছে। যদি দেশের লোক মনে করে যে, উনি এই বক্তব্যগুলো বিরাগের বশবর্তী হয়ে বলেছেন, তাহলে সে রায়ের কী অবস্থা হবে? সংসদ সদস্যরা ইম-ম্যাচিউরড,  সংসদ আমাদের নির্দেশ মানেনি, এ কথাগুলো যদি অনুরাগ, বিরাগের মধ্যে চলে আসে, তাহলে সে জজের পজিশনটা কী হবে? তার শপথ থাকছে কিনা, সেটাও আপনাদের বিচার করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

এ রায়ে আট-নয়জন অ্যামিকাস কিউরির সাপোর্ট দেওয়া প্রসঙ্গে খায়রুল হক বলেন, ‘‘এখন থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগে আমি শিক্ষানবিস আইনজীবী ছিলাম। আমার সিনিয়র আমাকে বলেছিলেন, ‘যে দেবতা যে মন্ত্রে তুষ্ট, সেই দেবতাকে সেই মন্ত্রেই শুধাবা।’ আমি কী বলেছি? আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।’’ তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে ইস্যুর বাইরেও কিছু কথাবার্তা হয়েছে। সাধারণত প্রতিটি জিনিসের গ্রামার থাকে। আমাদের রায় লেখার মধ্যেও একটা গ্রামার আছে। যা আমরা ফলো করি।’

খায়রুল হক বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ১৫২ জন ঠিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেনি। তাহলে উনারা (বিচারপতিরা) কি ঠিকভাবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন নাকি। এক জায়গায় উনি বলেছেন, আমরা সংসদকে যে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, সে নির্দেশনা সংসদ মানেনি। সংসদকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের নেই। সেই নির্দেশ যদি দিয়েও থাকে তাহলে তা মানতে সংসদ বাধ্য নয়। সংসদ হলো সার্বভৌম।’

সাবেক সচিব ওয়ালিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। 

/ইউআই/এমএন এইচ/

লাইভ

টপ