মৃত শিশুকে আইসিইউতে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রির্পোট
প্রকাশিত : ১৩:০৬, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০৬, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭

ধানমন্ডি থানার সামনে মৃত শিশুটির বাবা শহীদ ও ফুফু হাসিনা বেগমরাজধানীর ধানমন্ডি কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মৃত এক শিশুকে আইসিইউতে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন শিশুটির পরিবার। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই মৃত শিশুর পরিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। তারা এ বিষয়ে মামলা করবে বলেও জানানো হয়।

শিশুটির ফুফু হাসিনা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমরা যখন বাচ্চা নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে যাই তখন সেখানকার ডাক্তার বলেন, ‘ডেড বাচ্চা’ নিয়ে আসছেন কেন? তাদের এ প্রশ্নের জবাব আমাদের কাছে ছিল না। আমরা জীবিত বাচ্চা নিয়ে ওই হাসপাতালে গেছি, কিন্তু বাচ্চা আগেই মারা গেছে। তবে টাকার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরা বাচ্চা রাইখা আমাদের ভুল বুঝাইছে, সেইতো আর আমরা জানতাম না।’’

শিশুটির বাবা শহীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার বাঁধন ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যা শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু শিশুটির শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ওই রাতেই ধানমন্ডি কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে আনার পর তাকে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়। যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৭ হাজার টাকা বিল আসতে থাকে। তবে ওষুধ আমরা কিনে দিতাম। ১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধানমন্ডি কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫৪ হাজার টাকার বিল করে। যদিও পরে অনেক অনুরোধ করে ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে ডাক্তাররা জানান, বাচ্চার হার্ট কাজ করছে না। তাকে নিতে হলে লাইফ সার্পোটে নিতে হবে। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সবকিছু না পাওয়ায় তাকে আমরা শিশু হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। পরে ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে বাচ্চাকে নিয়ে শিশু হাসপাতালে রওনা হই। সাড়ে ১১ টার দিকে তাকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছালে ডাক্তার জানান, ‘ডেড বাচ্চা’ নিয়ে আসছেন কেন?’

অন্যদিকে, ধানমন্ডি কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক শামীম মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুটির হার্ট কাজ করছিল না, অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। বাচ্চাটি লাইফ সার্পোটে ছিল। যখন তাকে নিয়ে শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন অ্যাম্বু ব্যাগ (হার্টের রোগীদের শ্বাস প্রশ্বাসের কৃত্রিম উপায়) ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাচ্চাটির অবস্থা খুব খারাপ থাকায় তাকে বাঁচানো যায়নি। এখানে আমাদের কোনও গাফিলতি নেই। আমরা মৃত রোগীকে আইসিইউতে রেখে কখনই ব্যবসা করি না এবং করবও না।’

আরও পড়ুন:
টাকা নিয়ে উধাও দালাল, প্রতারিত হচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা
জনবল তিন গুণ করতে চায় ইসি
রাখাইনে হত্যা-ধর্ষণ-উচ্ছেদের বিপুল আলামত পেয়েছে এইচআরডব্লিউ

/জেএ/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ