ঢাবির শিক্ষক সামিয়া ও মারজান দু’জনে নিবন্ধটি যেভাবে লিখেছেন

Send
রশিদ আল রুহানী
প্রকাশিত : ২০:১৮, অক্টোবর ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২২, অক্টোবর ০২, ২০১৭

নিবন্ধ লেখার শুরুতে সামিয়া ও মারজানের মধ্যে আদান-প্রদান করা ইমেইলফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো ও মার্কিন দার্শনিক অধ্যাপক এডওয়ার্ড সাঈদের গবেষণা নিবন্ধের কিছু অংশ হুবহু চুরি করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে। তারা দু’জনে মিলে ওই নিবন্ধটি কিভাবে লিখেছিলেন, তা জানতে পেরেছে বাংলা ট্রিবিউন।ওই নিবন্ধটি লিখতে গিয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে যে ইমেইল আদান-প্রদান হয়েছে, তার স্ক্রিনশটও এসেছে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে।
এর আগে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ওই দুই শিক্ষকের লেখা ঢাবি সোস্যাল সায়েন্স রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত ‘আ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: আ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ নিবন্ধটির বিরুদ্ধে অন্য নিবন্ধ থেকে চুরির অভিযোগ ওঠে। নিবন্ধটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান ও ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজান। এ অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিন্ডিকেট সদস্যরা।
সামিয়া রহমানের পাঠানো অংশে মিশেল ফুকো ও এডওয়ার্ড সাঈদের অংশের উল্লেখসিন্ডিকেট সদস্যরা জানান, ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর লেখা ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে সামিয়া রহমান ও মারজান লেখা কপি করেছেন বলে শিকাগো জার্নাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পাঠিয়েছে। এর একদিন পরে জানা যায়, উত্তর-উপনিবেশিক গবেষক ও দার্শনিক এডওয়ার্ড সাঈদের লেখা নিবন্ধ থেকেও কিছু অংশ হুবহু ব্যবহার করা হয়েছে সামিয়া ও মারজানের নিবন্ধে। সাঈদ একাডেমি অব প্যালেস্টাইনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
এর আগে, নিবন্ধে মিশেল ফুকোর লেখা থেকে চুরির অভিযোগ বিষয়ে শিক্ষক সামিয়া রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, তিনি ওই নিবন্ধ লেখা শেষ করে জমা দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। লেখার দায় তিনি চাপিয়ে দেন মারজানের বিরুদ্ধে। সামিয়া দাবি করেন, লেখা শুরুর সময় দু’জনের মধ্যে কিছু আইডিয়া বিনিময় করলেও নিবন্ধ লেখার কাজে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। মারজান তাকে না জানিয়েই নিবন্ধে তার নাম ব্যবহার করেছেন।
লেখা চুরির অভিযোগ জানাজানিয়ে হয়ে গেলে মারজান দাবি করেন, নিবন্ধের বড় একটি অংশই সামিয়ার লেখা। ওই অংশগুলোতেই চুরির অভিযোগ এসেছে। নিবন্ধ লেখায় দু’জনের অংশগ্রহণের তথ্যপ্রমাণও মারজান সরবরাহ করেছেন বাংলা ট্রিবিউনকে।
সামিয়া রহমানের পাঠানো নিবন্ধের শুরুর অংশমারজানের পাঠানো ইমেইলের স্ক্রিনশট থেকে দেখা যায়, মারজান ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ইমেইলের মাধ্যমে সামিয়া রহমানকে লেখার কাজ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওইদিনই মারজানকে একটি ফিরতি ইমেইলের অ্যাটাচমেন্টে একটি ফাইল দিয়ে সামিয়া রহমান বলেন, ‘সাঈদ, ফুকো, চমস্কি শুরু করেছি। দেখি, কতটুকু এগুতে পারি। তুমি ততক্ষণে এটা অনুবাদ করতে থাকো। আর শুরুটা আমি অনুবাদ করে ফেলেছি।’
এরপর ওই বছরের ২৯ আগস্টও দুই শিক্ষকের মধ্যে কয়েকটি ইমেইল আদান-প্রদান হয় ওই নিবন্ধ লেখা নিয়ে। পরে ২০১৬ সালের ১৯ জুন তাদের মধ্যে বেশকিছু ইমেইলে নিবন্ধ লেখা নিয়ে আলাপ হয়। ইমেইলগুলোর স্ক্রিনশট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শিক্ষক মারজানকে কাজের নির্দেশনা দিয়েছেন সামিয়া রহমান। মারজান সেগুলো শেষ করে আবার সামিয়া রহমানকে পাঠিয়েছেন। সামিয়া রহমান নিজেও লেখা পাঠিয়েছেন মারজানকে।
সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজাননিবন্ধটি লেখার বিষয়ে শিক্ষক মারজান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিশেল ফুকো, এডওয়ার্ড সাঈদের অংশগুলো সামিয়া রহমানেরই লেখা। সেগুলোর প্রমাণও আমার কাছে আছে।’
লেখায় দু’জনেরই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল কিনা জানতে চাইলে সামিয়া রহমান রবিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ওকে (মারজান) কিছু আইডিয়া দিয়েছিলাম সেই ২০১৫ সালের দিকে। লেখার বিষয়ে আমাদের মধ্যে তো কথা হয়েছেই। সেই হিসেবে ওকে কিছু আইডিয়া দিতেই পারি। সেখানে ফুকো, চমস্কি, সাঈদের নিবন্ধের প্রসঙ্গও আসতে পারে। কিন্তু এগুলো তো যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
সামিয়া রহমান আরও বলেন, ‘পরে দীর্ঘদিন ওর সঙ্গে আমার যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে সে নিজে নিবন্ধটির লেখা শেষ করেছে। আমাকে লেখার কোনও কপিও দেয়নি। নিবন্ধটি কিভাবে লিখলো, কোথাও কোনও সমস্যা আছে কিনা, সেটা তো আমাকে দেখিয়ে নেওয়ার কথা। কিন্তু আমাকে সে দেখায়নি। সে নিজে নিজে ডিন অফিসে লেখাটি জমা দিয়েছে। আমি সেটা জানতামই না।’
আরও পড়ুন-
ফুকোর নিবন্ধ থেকে ৫ পৃষ্ঠা লেখা চুরির অভিযোগ, সামিয়ার অস্বীকার

ঢাবির সামিয়া ও মারজানের বিরুদ্ধে এডওয়ার্ড সাঈদের লেখাও কপির অভিযোগ

/টিআর/

লাইভ

টপ