অতিথিদের সঙ্গে দেশি লেখকরাও যেন সমান সম্মান পান: আনিসুল হক

Send
মোহাম্মদ মারুফ
প্রকাশিত : ২১:৪৪, নভেম্বর ০৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৭, নভেম্বর ০৬, ২০১৭

 

আনিসুল হকআনিসুল হক—একাধারে কবি, লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। ৭ম ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭ উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন জনপ্রিয় এই কথা সাহিত্যিক।

সাত বছরে ঢাকা লিট ফেস্ট। এই সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে আপনার অনুভূতি কী?

আনিসুল হক: যেকোনও উৎসবই আনন্দের। আমরা যখন বাইরের কোনও দেশে যাই, তখন সে দেশের লোকেরা আমাদের দেশ সম্পর্কে জানতে চান। অনেকেরই আমাদের দেশ সম্পর্কে জানার সীমাবদ্ধতা থাকে, সে ক্ষেত্রে লিট ফেস্টের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী আসছেন, তারা আমাদের দেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন দেশের সাহিত্য সম্পর্কে জানতে পারছি। বিদেশিরাও আমাদের সাহিত্য সম্পর্কে জানতে পারছেন। এটি খুবই খুশির একটি ব্যাপার।

এ ধরনের একটি সাহিত্য সম্মেলন দেশের রাজনৈতিক ও অন্যান্য পরিস্থিতিতে প্রভাবক হিসেবে কী রকম ভূমিকা রাখতে পারে?

আনিসুল হক: এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রসঙ্গ। আমরা ঐতিহাসিক ও জাতিগতভাবে সবসময় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ওপর নির্ভর করেছি। আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ যেকোনও  আন্দোলনে কবি- সাহিত্যিকসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বড় ভূমিকা ছিল। আমরা জানি, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক ধ্বংস যজ্ঞ চালানো হয়েছে। যার ফলে আমাদের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশে ৬ লাখের ওপর রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হয়েছে। যেটি নিয়ে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া ও তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি ব্যাপারে চেষ্টা করছে। সেই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে ঢাকা লিট ফেস্ট একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজক ও  আমাদের দেশের কবি-সাহিত্যিক–সবার উচিত হবে, বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে এটি নিয়ে আলাপ করা ও রোহিঙ্গা নির্যাতন ও আমাদের দেশরে প্রেক্ষাপটে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদের  জানানো।

লিট ফেস্টের মধ্য দিয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে যাচ্ছে অনূদিত বাংলা সাহিত্য। এটিকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

আনিসুল হক: আমাদের দেশের সাহিত্যের মান আসলে অনেক বেশি ভালো। অন্য ভাষায় অনূদিত না হলেও এটি ভাবার সুযোগ নেই যে, আমাদের সাহিত্য পিছিয়ে আছে। এটি নিয়ে আমাদের একেবারেই হীনমন্যতায় ভোগার সুযোগ নেই।  তবে এটি সত্য যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়া আর কোনও বাংলা ভাষাভাষী সাহিত্যিকের কাজ নিয়ে বড় অনুবাদ হয়নি। এটি হয়েছেও মানের কারণে। যখন কোনও ভালো কাজ হবে, তখন সেটি এমনিতেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।  আরেকটি ব্যাপার এখানে আছে, সেটি হলো; আমরা যদি ভাবি যে, আমাদের লেখা ইংরেজিতে প্রকাশ করলেই মান বা বিস্তৃতি বাড়বে। এটা ভেবে আমরা যদি ইংরেজিতে লিখি সেটি আসলে কোনও কাজে আসবে না। এটি ভাবাও বোকামি। যখনই বিশ্বের বড় কোনও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আমাদের বই অনুবাদ প্রকাশ করবে, তখনই সেটি গুরুত্ববহ হবে। এ জন্য আমাদের বাংলাতেই লিখতে হবে। লেখার মান উন্নত-পর্যায়ের হলে সেটি নিজের যোগ্যতাতেই বিশ্ব সাহিত্যে জায়গা করে নেবে। 

ঢাকা লিট ফেস্ট নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আনিসুল হক: এখানে দু’টি প্রসঙ্গ বলব। একটি হলো, এখানে যে বিদেশি মেহমানরা আসবেন, তাদের যত্নের ব্যাপারে সতর্ক থাকা। ত্রুটিহীনভাবে তাদের থাকার জায়গা থেকে প্রোগ্রামে আনা-নেওয়া করা। সেই সঙ্গে এই বিষয়েও খুব সতর্ক থাকা যে, বিদেশি অতিথিদের যেই পরিমাণে সমাদর করা হয়; আমাদের স্বদেশি যে সব কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা সেখানে থাকবেন তাদেরও ঠিক সমান পরিমাণ সম্মান সমাদর করা। ফেস্টে যে সেশনগুলো থাকবে, সেটি সময়মতো শুরু করা। অন্যটি হলো, ঢাকা লিট ফেস্টের মাধ্যমে সাহিত্যিকদের মিলনমেলার পরিসর আরও আগামীতে বাড়ুক। 

/এফএএন/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ