সুপ্রিম কোর্টের চিঠি নিয়ে আদালতের সাত পর্যবেক্ষণ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:২৩, নভেম্বর ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৮, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

সুপ্রিম কোর্টআপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে কোনও ‘ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন হবে না’ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো সুপ্রিম কোর্টের চিঠি আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি খর্ব করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ মামলার রায় পর্যবেক্ষণে এই মন্তব্য করেন। মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে সাতটি পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। এগুলো হলো– ১. আপিল বিভাগের প্রশাসনিক ক্ষমতায় ওই চিঠিটি দেওয়া যথাযথ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে জারি করা রুলের বিচার চলতে পারে। 

২. এ চিঠি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু অপ্রাসঙ্গিক ও এখতিয়ারবহির্ভূত যুক্তি গ্রহণ করেছে, যা কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। 

৩. এ চিঠি আপিল বিভাগ তার প্রশাসনিক ক্ষমতায় দিয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের মতামত বলার সুযোগ নেই। 

৪. এ চিঠি জনগণের কাছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি খর্ব করেছে। 

৫. ওই চিঠি জনগণের মধ্যে বার্তা দিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে দায়মুক্ত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর কেউ দায়মুক্তি পেতে পারেন না। তবে রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র তার পদে বহাল থাকাবস্থায় এ দায়মুক্তি পাবেন। 

৬. সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে সাত বছর ধরে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থতা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এবং

৭. ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বিশেষ নজর রাখতে হবে। যাতে অকারণে তাদের মর্যাদাহানি না ঘটে বা হয়রানির শিকার না হন। মনে রাখতে হবে, এর সঙ্গে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও গৌরব জড়িত।

রায় ঘোষণাকালে আদালতে দুদকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। পাশাপাশি এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী ও সমিতির সাবেক সম্পাদক এএম আমিন উদ্দিন।

গত ৩১ অক্টোবর ওই চিঠির বৈধতা-সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষে তা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।  সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারেরও অভিযোগ রয়েছে দুদকের কাছে।

এরপর গত ২ মার্চ বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। এর জবাবে গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দুদকে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। তাতে ওই বিচারপরিত বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন হবে না বলে জানানো হয়। চিঠিটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বদিউজ্জামান তরফদার।

এরপর গত ৯ অক্টোবর ওই চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

রুলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, দুদক চেয়ারম্যান, আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী ও বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে দশ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ১৯ অক্টোবর রুলের ওপর প্রথম শুনানি শুরু হয়। এসময় দুদক আদালতকে জানায়, সুপ্রিম কোর্ট চিঠি দিলেও ওই বিচারকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান থেমে থাকেনি। আর দুদকের চাহিদা অনুযায়ী ওই বিচারকের বিষয়ে নথিপত্রও পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন:

বিচারপতি জয়নুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে কোনও বাধা নেই

 

/বিআই/এএম/

লাইভ

টপ