বাংলার নারীরা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০০, নভেম্বর ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৭, নভেম্বর ১৬, ২০১৭

‘বাংলার নারী, দুর্জয় ঘাঁটি’ শীর্ষক সেশনে উপস্থিত বক্তারাবাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে নারীদের অবদানকে ছোট করে দেখার প্রবণতা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়েছে। সার্বিকভাবেই দেশের উন্নয়নে এখন নারীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। শুধু তাই নয়, নারীদের প্রতি বৈষম্য তুলে ধরতে ও নারী অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রেও বিশ্বে অন্যতম পথিকৃৎ আমাদেরই বেগম রোকেয়া। এই সময়ে এসেও তারা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭-এর উদ্বোধনী দিনে দুপুর পৌনে ২টায় ‘বাংলার নারী, দুর্জয় ঘাঁটি’ শীর্ষক এক সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন পাপড়ি রহমান। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি এবং সাংবাদিক মিথিলা ফারজানা।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, লৈঙ্গিক বৈষম্য বা নারী অধিকারের মতো বিষয়গুলো আমাদের দেশে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এসেছে। কিন্তু বেগম রোকেয়া এ বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন অনেক আগে। ১৮৮০ সালের পর তিনি এ বিষয়ে যত কাজ করেছেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে এত কাজ আর কেউ করেননি।’
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সেলিনা হোসেন বলেন, ‘১৯৪৭ সালের পর বাংলার নারীরা রাজনীতিতে তেমন অংশ নেননি। তবে এখন তারাও রাজনীতিতে এগিয়ে এসেছেন। আমাদের সাহিত্যেও তাদের অনেক অবদান রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মানব সভ্যতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন নারীরা। নারীরা নিজের জ্ঞান দিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখছেন। সমাজের দায় এই নারীদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। মূলত পুরুষের আধিপত্যই নারীদের দমিয়ে রাখে। সেই প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
কবি ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা রাজনীতি সচেতন। তারা রাজনীতি বিষয়ে জানেন ও বোঝেন। তারা এখন রাজনীতিতেও অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামে তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি। বাংলাদেশের উন্নতিতেও নারীদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।’
মিথিলা ফারজানা বলেন, ‘গণমাধ্যমে নীতি নির্ধারক হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ কম। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদান এখনও অনেক কম। তবে এই মাত্রাটা ভবিষ্যতে বাড়াতে হবে।’
নবনীতা চৌধুরী বলেন, ‘আমি যে আজ একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্পাদক পর্যায়ে আছি, সেটা কখনই ভাবতে পারিনি। আসলে বাংলাদেশের মতো ছোট দেশগুলোতে নারীদের ছোট করে দেখার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে কাজ করে। আমাদের এখানেও নারীদের যোগ্যতা খাটো করে দেখানোর জন্য অনেকেই চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু সেসব বাধা এগিয়েই আমাদের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন।’
আরও পড়ুন-
পর্দা উঠলো লিট ফেস্টের

আদোনিসের হাতে ‘মুজিব’ গ্রন্থ
আমি মানুষের পক্ষের কবি: আদোনিস

/এমডিপি/টিআর/

লাইভ

টপ