সভা ঠেকাতে বর্জ্য!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩৪, নভেম্বর ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৬, নভেম্বর ১৬, ২০১৭

আওয়ামী লীগের সভাস্থলে রহস্যজনক ময়লার স্তূপঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানস্থলের সামনে ময়লা ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কে বা কারা এ কাজ করেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও আওয়ামী লীগের দু’টি গ্রুপের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

দু’টি গ্রুপের একটির নেতৃত্বে আছেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আর অন্যটিতে রয়েছেন একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের অনুসারীদের দাবি, সম্প্রতি মগবাজার-মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহে আলম মুরাদের সমর্থকরা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু আহমেদ মান্নাফীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেন। এর প্রতিবাদে ওই মুক্তিযোদ্ধারা আজ (বৃহস্পতিবার) আজিমপুর পার্ল হারবার কমিউনিটি সেন্টারের সামনের রাস্তায় এক প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি দেন। সভায় মেয়রের সম্মতি ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ সভার কথা জানতে পেরে মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে একই জায়গায় দলীয় সদস্য নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের জন্য কর্মসূচি দেয়। কিন্তু তাদের সভাস্থল পার্ল হারবারের সামনের রাস্তায় কে বা কারা স্তূপাকারে ময়লা ফেলে রাখে। মহানগর নেতাদের দাবি, সমাবেশ ঠেকাতে মেয়রের সমর্থক ও ডিএসসিসি’র কর্মীরা এই ময়লা রেখে গেছে।

জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কেন রাস্তায় ময়লা ফেলবেন? এমনিতেই নগরীতে একদিন সরাতে না পারলে অনেক স্থানেই ময়লা জমে যায়। সেখানেও এমনটা হতে পারে। দুপুরের দিকে আমি এমন একটি বিষয় জানতে পারি। এরপর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। ময়লা থাকলে দ্রুত সরে যাবে।’

বিষয়টি তুলে ধরে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত পক্ষে বিষয়টি হচ্ছে গত ২৬ অক্টোবর মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভারের উদ্বোধনকালে শাহে আলম মুরাদের লোকজন আমাদের কাউন্সিলর ও মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেন। এর প্রতিবাদে  কয়েকজন কাউন্সিলরসহ ওই মুক্তিযোদ্ধারা  আজিমপুরে প্রতিবাদ সভা করেন।একই সময়ে তারা একটা কর্মসূচি দিয়ে আবারও বিনা কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা করেছেন।’

জানতে চাইলে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু আহমেদ মান্নাফী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেদিন আমিসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে শাহে আলম মুরাদের লোকজন লাঞ্ছিত করে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনতা আজ (বৃহস্পতিবার)  সভা করে শাহে আলম মুরাদকে বহিষ্কারের দাবি করেন। এসময় শাহে আলম মুরাদের লোকজন আমাদের লোকজনের ওপরে হামলা করে।’

শাহে আলম মুরাদের পক্ষের অভিযোগ, তারা আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের জন্য কর্মসূচি দেয়। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থল আজিমপুর পার্ল হারবার কমিউিনিটি সেন্টারের সামনেই ভোর রাতে বিশাল ময়লার স্তুপ ফেলে রাখা হয়েছে। এটি ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানও নয়। রাতের আঁধারে দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের কর্মীরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সহযোগিতায় ট্রাক ভর্তি ময়লা সেখানে ফেলে গেছে। ময়লার স্তুপের কারণে ওই স্থানে দুর্গন্ধে চলাচল করা যাচ্ছে না।

শাহ আলম মুরাদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের ময়লা কার নির্দেশে ফেলা হয় আপনারাই না হয় খোঁজ নিয়ে দেখেন। আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না।’

ময়লার স্তুপের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন তো হওয়ার কথা নয়। হয়ে থাকলে ময়লা সরে যাবে।’

বৃহস্পতিবার সকালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক দীপু মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ উপস্থিত থাকার কথা।

কিন্তু দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে দীপু মনি সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

/এসএস/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ