রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:১৭, নভেম্বর ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪১, নভেম্বর ১৬, ২০১৭

 

‘রোহিঙ্গা-বিপন্ন মানবতা’ শীর্ষক এক সেশনগত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইনে রোহিঙ্গা হত্যা শুরু করে। রোহিঙ্গাদের ওপর এর আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে এবারের নির্যাতন ভয়াবহ। ফলে নির্যাতিতরা যে যেভাবে পেরেছে, স্বদেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের আশ্রয় দিয়ে সরকার মানবতার পরিচয় দিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ সংকটেও পড়েছে।তবে এই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন হবে। সংকটও দীর্ঘস্থায়ী হবে। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭-এর উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা ৭ টায় ‘রোহিঙ্গা-বিপন্ন মানবতা’ শীর্ষক এক সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণা বিভাগের ইনচার্জ ও গবেষক শেরিফ আল সায়ারের সঞ্চালনায় এই সেশনে অংশ নেন কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী, কবি ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তপধীর ভট্টাচার্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ ও জার্মান রেডিও ডয়চে ভেলের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ।

সভার শুরুতে কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী রোহিঙ্গাদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘একসময় তারা মিয়ানমারের নাগরিক ছিল। কিন্তু ১৯৬২ সালের পরে নাগরিকত্ব হারিয়েছে। মিয়ানমার সরকার বলে, তারা নাকি বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের নাগরিক নয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে তারা নাকি আরাকানে গেছে। কিন্তু এবার যখন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া তাদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এ সমস্যার সমাধান কঠিন হবে বলেই মনে করি।’

কবি ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তপধীর ভট্টাচার্য বলেন, ‘মিয়ানমার এথনিক ক্লিনজিং রাষ্ট্রনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রটি নিপীড়কের ভূমিকা পালন করছে। এর পেছনে অবশ্যই বড় কোনও বৈশ্বিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলেও থাকতে পারে। এর ধারণা পাওয়া খুব একটা কঠিন নয়। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—কে নেবে পৃথিবীর মালিকানা? এটা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুটির মাধ্যমে মিয়ানমার বড় কোনও স্বার্থে মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটিয়েছে। এটুকু বিশ্বাস করি, এ সমস্যার সমাধান এতটা সহজ নয়।’

বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ ও জার্মান রেডিও ডয়চে ভেলের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ বলেন, 'মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের অত্যাচার নির্যাতন করে কৌশলে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এটাকে আমরা এথনিক ক্লিনজিং বলতে পারি। এটা মানবিকতার চরম অপরাধ। আর এটা মিয়ানমার সরকার করছে, মূলত একটি বড় কোনও ফায়দা লুটের উদ্দেশ্যে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। আমরা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছি কিন্তু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া এতটা সহজ হবে না। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও এমনই একটি সংকটের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে আমি মনে করি, এ সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। তবে একটা আশা রাখতেই চাই, মিয়ানমারে হয়তো কোনও একসময় কোনও মহামানবের আবির্ভাব হবে, যিনি রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধান করবেন।’

আরও পড়ুন-
পর্দা উঠলো লিট ফেস্টের

 

আদোনিসের হাতে ‘মুজিব’ গ্রন্থ

আমি মানুষের পক্ষের কবি: আদোনিস

বাংলার নারীরা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে

জনপ্রিয় লেখকই হতে চেয়েছিলাম: ইমদাদুল হক মিলন

ফেক নিউজের বিপক্ষে মূলধারার গণমাধ্যমকে দাঁড়াতে হবে

 

/আরএআর/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ