ব্রিটিশ আমলে আমার পরিবারের একজন থাকতেন বাংলাদেশে: টিলডা সুইন্টন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৪৮, নভেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৪, নভেম্বর ১৭, ২০১৭

লিট ফেস্টের মঞ্চে টিলডা সুইন্টন, সঙ্গে আহসান আকবারলিট ফেস্টে আসা অস্কারজয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টনের সঙ্গে বাংলাদেশেরও যোগাযোগ রয়েছে। সেই গল্পটা তিনি শোনালেন বাংলাদেশে এসে। জানালেন, সুইন্টন পরিবারের এক সদস্য দীর্ঘদিন বাস করেছেন বাংলাদেশে। তার নাম আর্চিবল। সেটা ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের সময়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশে।
‘ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৭’-এর দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার সেশনে আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অস্কারজয়ী এই ব্রিটিশ অভিনেত্রী ‘পারফর্ম্যান্স অ্যাজ অথরশিপ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন উৎসবের অন্যতম পরিচালক আহসান আকবার।
সেশনের শুরুতে আহসান আকবার দর্শকদের শোনান টিলডার সঙ্গে তার যোগাযোগ হওয়ার গল্প। তিনি জানান, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ তারিক আলীর সূত্রে পরিচয় টিলডার সঙ্গে। সেই যোগাযোগ থেকেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। তারই সূত্র ধরে লিট ফেস্টের মঞ্চে হাজির টিলডা।
তবে এই মঞ্চে টিলডা অভিনেত্রী হিসেবে নয়, উপস্থিত হন লেখক হিসেবে। নিজের বক্তব্যের শুরুতেও সেই কথাটিই জানান দেন তিনি। বলেন, ‘আমি একজন লেখক।’ জানান, তার লেখালেখির শুরু ছোটবেলাতেই। আর তার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছেন পরিবার থেকেই। সুইন্টন পরিবারের সাংস্কৃতিক আবহই তাকে লেখালেখি করতে উৎসাহিত করেছিল। পারিবারিক সেই আবহের আরেক প্রমাণ ঢাকা লিট ফেস্টের আরেক ডেলিগেট উইলিয়াম ডালরিম্পল, যিনি সম্পর্কে তার কাজিন।
কিন্তু লেখালেখির সেই অভ্যাস ধরে রাখতে পারেননি টিলডা। লেখালেখির বাইরে ছিলেন টানা ৩২ বছর। কেন লেখালেখি ছেড়ে দিয়েছিলেন সেটা না বললেও টিলডা জানান, লেখালেখি ছেড়ে তিনি মোটেও ভালো ছিলেন না। তার ভাষায়, এই ৩২ বছর তিনি কক্ষচ্যুত ছিলেন। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে, বিশেষ করে উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেউ যেন কখনোই এই ভুল না করে। যে যেটা করে আনন্দ পায়, যেটা করে তুষ্টিলাভ করে, তার সেটাই করা উচিত। আমার ক্ষেত্রে এটা ছিল লেখালেখি। লেখালেখি ছেড়ে দেওয়াটা ছিল আমার জন্য অভিশাপের মতো একটি বিষয়।’
টিলডা পড়ালেখার পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেছেন। তার মতে, ৭ বছর পর্যন্ত দুরন্তপনার সময়। এসময় ছেলেমেয়েরা গাছে ওঠা শিখবে, সাঁতার কাটা শিখবে, সাইকেল চালানো শিখবে। পরের ৭ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বয়স। এই বয়সে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বেড়াবে। তার পরের ৭ বছর সত্যিকার পড়ালেখার বয়স বলে মনে করেন টিলডা। তার কাছে এই বয়সটা বুদ্ধিবৃত্তি গড়ে ওঠার বয়স। একটি ফুটনোটও দিলেন এই লেখক- ১৬ বছরের আগে কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট শিশুর হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
তবে স্বর্গে যাক আর নরকে যাক, ধান না ভেনে তো আর ঢেঁকি থাকতে পারে না। তাই টিলডাকেও কথা বলতে হয়েছে অভিনয় নিয়ে। ছোটবেলায় লেখালেখি করলেও পরে তিনি চলে আসেন অভিনয় জগতে। বলেন কিভাবে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল লেখক-পরিচালক ডেরেক জার্মানের। কথা বলেন তার জীবনসঙ্গী জন বায়ার সম্পর্কেও।
পুরো সেশনটি প্রাঞ্জলভাবে পরিচালনা করেন আহসান আকবার। তার এক প্রশ্নের জবাবে টিলডা জানান, তিনি যে এত বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, পুরোদস্তুর ব্যবসায়িক চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে একেবারে বিশুদ্ধ আর্টফিল্মে পর্যন্ত, এই চলচ্চিত্রগুলো তিনি আসলে কোনোকিছু দেখে পছন্দ করতেন না। পছন্দ হওয়ার ব্যাপারটা নাকি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঘটত। যেটা তার ভালো লাগত, সেটাতেই অভিনয় করতেন। পাশাপাশি এই প্রশ্নের জবাবে উঠে আসে তার জীবনের আরেক সত্য- তিনি কখনও তো অভিনেত্রী হতেই চাননি, এমনকি নিজেকে খুব ভালো অভিনেত্রী বলেও তিনি মনে করেন না।
এসব বিষয়ের পাশাপাশি জেন্ডার ইস্যুতেও কথা বলেন টিলডা। তিনি পড়ে শোনান তার বাবা মেজর জেনারেল জন সুইন্টনের ওপর তার একটি লেখার খানিকটা অংশও। তবে সেশনে দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হয়ে আসে এক কিশোরের প্রশ্ন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সে টিলডাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়- বাংলাদেশের কোন জিনিসটি তোমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে? এই প্রশ্নে টিলডার উত্তরও ছিল বুদ্ধিদীপ্ত- এই মুহূর্তে তুমিই আমার সবচেয়ে পছন্দের।

/টিআর/

লাইভ

টপ