এখন ‘#মি টু’কে এগিয়ে নেওয়ার সময়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২৯, নভেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৫, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

‘#মি ঠু’ শীর্ষক সেশনে বক্তারা#মি টু (#metoo) ক্যাম্পেইনের একমাস পেরিয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কী ভাবছেন নারীরা? সমাজ কী বদলেছে এতটুকুও? পুরুষরা সচেতন হয়েছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭’-এর দ্বিতীয় দিনে দুপুর ২টায় এক সেশনে বসেছিলেন নারী সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদরা।
বাংলা একাডেমির লনে ‘#metoo’ শীর্ষক এ সেশনে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক, কলামিস্ট, সাংবাদিক বাচি কড়কড়িয়া; নারী অধিকারকর্মী অধ্যাপক সাবিনা ফাইজ রশিদ; একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী সামিয়া জামান; শিক্ষাবিদ ও কবি সোফিয়া ওয়াকার। সেশনটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জ্যোতি মালহোত্রা।
১৯৯৭ সালে সমাজকর্মী টারানা বুর্কির কাছে মায়ের প্রেমিকের হাতে যৌন নির্যাতিত হয়েছিলেন এক কিশোরী। ওই কিশোরীকে বুর্কি বলতে চেয়েছিলেন ‘মি টু’ (আমিও)। সেসময় বুর্কি তা বলতে পারেননি। তবে শুরু করেছিলেন এক প্রচারণা। গত ১০ অক্টোবর নিউইয়র্ক টাইমসে চলচ্চিত্র প্রযোজক হারভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এর পাঁচ দিন পর অভিনয়শিল্পী এলিসা মিলানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালু করেন #মিঠু (#metoo) প্রচারণা। দিন না কাটতেই ভাইরাল হয়ে পড়ে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে নারীদের প্রতিবাদের এ নতুন ভাষা।
‘নারীমাত্রই সন্তান জন্ম দেবেন, লালন-পালন করবেন, সংসার সামলাবেন- এ সামাজিক ধারণা ভেঙে দেওয়ার এখন সময় এসেছে।’ এমন মন্তব্য করেন সামিয়া জামান। সাবিনা ফাইজ বলেন, ‘এখনওতৃণমূল পর্যায় থেকে কোনও নারী আওয়াজ তুলতে চাইলে সে সামনে কংক্রিটের দেয়াল ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না।’
সোফিয়া ইঙ্গিত করেন পুরুষদের দিকে। তার বক্তব্য, ‘নারীরা নিজেদের জন্য কী করছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখন দেখার সময় এসেছে পুরুষরা কি এগিয়ে আসছে?’ নারীদের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন না করার পেছনে বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সময়কে কারণ হিসেবে মনে করেন বক্তারা। অর্থনৈতিকভাবে নারীরা স্বাবলম্বী হলেও এখনও নিজের ঘরে হয়রানি, এমনকি নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোকেও তারা দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।
তবে নিজেদের ক্ষমতাহীন মনে করাই পুরুষদের আরও বেশি করে ক্ষমতাবান হিসেবে গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করেন এক দর্শক।
এই প্রচারণা নারীদের নতুন করে ভাবাতে শুরু করেছে বলে মনে করেন বাচি কড়কড়িয়া। তিনি বলেন, ‘তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। একে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন সময়ের দাবি।’

/টিআর/

লাইভ

টপ