দেশভাগের ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে দুই বাংলাকে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০৭, নভেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৮, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

`সম্পর্কের এপার ওপার' শীর্ষক সেশনে বক্তারাবাঙালি জাতিসত্তা যেকোনও জাতিসত্তার চেয়ে শক্তিশালী এবং স্বতন্ত্র একটি জাতিসত্তা। এর বন্ধন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস অনেক বেশি সমৃদ্ধ। অনেক বেশি মজবুত আর দৃঢ় বাঙালি জাতির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণও। তবে সেই সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে শঙ্কিত বাঙালি কবি-সাহিত্যিকরা। দেশভাগের ফলে এপার বাংলা ও ওপার বাংলার মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তার ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে দুই বাংলার মানুষকে।
‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭’-এর দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বাংলা একাডেমীর ভাস্কর নভেরা হলে আহমেদ রেজার সঞ্চালনায় ‘সম্পর্কের এপার ওপার’ শিরোনামে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী আলোচকদের আলোচনায় উঠে আসে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের বিভাজিত হওয়ার পূর্বাপর ও বর্তমান অবস্থার বিবরণ, সংকট ও সমাধানের পথ। আলোচনায় অংশ নেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, লেখিক শাহীন আখতার, সাজ্জাদ শরীফ, ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তপধীর ভট্যাচার্য ও কবি বিভাষ রায় চৌধুরী।
লেখিক শাহীন আখতার বলেন, ‘এপার ও ওপারের সম্পর্ক বেশ জটিল একটি বিষয়। বিশেষ করে চল্লিশের দশকে যখন ধর্মের ভিত্তিতে দুটি বাঙালি অঞ্চলকে বিভক্ত করা হয়, রাতারাতি হাজার হাজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়, রক্তপাত ঘটে; যেটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস বোধ একটু কম, আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না।’ শাহীন আখতার জানান, তার প্রকাশিতব্য উপন্যাসটিও দুই বাংলার সম্পর্ক ঘিরে। সেখানে তিনি আরও বিস্তৃত পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি বর্তমান প্রজন্মের সবাইকে দুই বাংলার মানুষের সম্পর্কের আদি ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তপধীর ভট্টাচার্য বলেন, ‘দেশভাগ হলো বাঙালির আদি পাপ। এই পাপ আমাদের যেকোনও উপায়ে মোচন করতে হবে। দেশভাগের মাধ্যমে আমাদের মানচিত্রই উদ্বাস্তু হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘সম্পর্ক সবসময় বর্তমানের ওপর নির্ভর করে। অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। কেননা অতীতের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কী হবে, তা কারও পক্ষে বলা সম্ভব না। তাই আমাদের বর্তমান সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিতে হবে। বাড়াতে হবে সাংস্কৃতিক বিনিময়।’
বাংলা একাডেমী মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য আমরা পশ্চিমবাংলার কাছে কৃতজ্ঞ। তবে বাংলাদেশের অনেক কবি-সাহিত্যিক পশ্চিমবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকদের সম্পর্কে অনেক বেশি ধারণা রাখলেও ওপারের কবি সাহিত্যিকেরা ঢাকার কবি সাহিত্যিকদের সম্পর্কে খুবই কম ধারণা রাখেন। এটা দুঃখজনক।’ এই পরিস্থিতির উত্তরণে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে শামসুজ্জামান খান আরও বলেন, ‘ভারতে বিজেপি তাজমহল ভাঙার কথা বলছে; বাংলাদেশে হেফাজত ভাস্কর্য ভাঙার কথা বলছে। সব মিলিয়ে সব জায়গাতেই সাম্প্রদায়িক উগ্রতা চলছে। তাই এখনই সবাই সজাগ না হলে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’
আলোচকরা বলেন, ইতিহাস বহমান নদীর মতো। গতি কখন কোথায় নিয়ে যাবে, কেউ জানে না। তবে হুমকির মুখে থাকা বাঙালিত্ব নিয়ে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

/টিআর/

লাইভ

টপ