জঙ্গিবাদ বিস্তারের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করেছিল জঙ্গি মিজান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৩০আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৪৭

মো. মিজানুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে আব্দুল্লাহ আল মিজান বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে জঙ্গিবাদ ছড়াতে এক রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করেছিল জেএমবির (সারোয়ার গ্রুপ) সদস্য মো. মিজানুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ ওরফে আব্দুল্লাহ আল মিজান (৩৭)। বাংলাদেশের জঙ্গি নেতা জসিমউদ্দিন রাহমানিকে গ্রেফতারের পর থেকে মিজান সাভার এলাকায় জেএমবির দাওয়াতি আমির হিসেবে কাজ করে আসছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে জেএমবির (সারোয়ার গ্রুপ) সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব ১১। যাদের একজন মো. মিজানুর রহমান ও অন্যজন হলেন ইব্রাহীম খলিল ওরফে ইব্রাহীম ওরফে শাহাজাহান (৩০)। তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় গত ২২ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছিল। র‌্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. শাকিল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।

র‌্যাব-১১-এর এই সিনিয়র সহকারী পরিচালক বলেন, ‘মিজান বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে জঙ্গিবাদ বিস্তার করতে চেয়েছিল। সাভারের মতো টেকনাফের কুতুপালং এলাকায় জেএমবি’র দাওয়াতি কার্যক্রমের জন্য নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করতে চেয়েছিল সে।  এ জন্য একমাস আগে এক রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করে।’ তবে ওই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করতে পারেনি র‌্যাব।

কক্সবাজার টেকনাফের কুতুপালং এলাকায় মিজান একাধিকবার যাতায়াত করেছিল বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা। তারা বলেন, এ দফায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আসা শুরুর আগেও মিজান কুতুপালং গিয়েছিল। রোহিঙ্গারা আসার পরও কয়েকবার গিয়েছে। তার উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গাদের মধ্যে জঙ্গিবাদ বিস্তার। মিজান জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হয় নিজে নিজেই। শুরুতে ‘আবদুর রউফ’ নামে একজনের বই পড়ে জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরবর্তী সময়ে জঙ্গি কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হয় জঙ্গি নেতা জসিম উদ্দিন রাহমানির হাত ধরে। একসময় জসিম উদ্দিন রাহমানি গ্রেফতারের পর সে দাওয়াতি কাজ অব্যাহত রাখে এবং নিজের একটি বলয় তৈরি করে। যেখানে সাত জন সদস্য ছিল। মিজান ছিল সেই বলয়ের দাওয়াতে আমির। র‌্যাবের ভাষ্য, এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনকে জেএমবিতে জড়িয়েছে  মিজান।

জঙ্গিবাদের সঙ্গে মিজানের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সে ২০০৯ সালে আবদুর রউফ নামে একজনের বই পড়ে উগ্রবাদে আকৃষ্ট হয়। একসময় জসিম উদ্দিন রাহমানির ধানমন্ডির হাতেমবাগ মসজিদে যাতায়াত শুরু করে সে। মিজান শিষ্য হিসেবে দীক্ষা নেয় তার। একপর্যায়ে উগ্রতার আদের্শে উজ্জীবিত হয়ে জসিম উদ্দিন রাহমানির হাত ধরে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হয় এবং সাভারে দাওয়াতি কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে জসিমউদ্দিন রাহমানি গ্রেফতার হলে মিজান সাভার এলাকায় জেএমবির দাওয়াতি কাজ অব্যাহত রাখে। একইসঙ্গে নিজস্ব বলয় তৈরি করে সাভার এলাকার দাওয়াতি আমির হিসেবে কাজ করে আসছিল।

২০১৪ সাল থেকে সাভাবে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সেটা পরিচালনা করছিল মিজানুর রহমান।  র‌্যাব জানায়, ২০০৩ সালে সে সাভারের একটি মাদ্রাসা হতে দাখিল পাস করে এবং ২০১২ সালে ঢাকার একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ২০০৫ সাল থেকে ঢাকার সাভার এলাকার আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। এছাড়া ২০১৪ সাল থেকে সাভারে নিজস্ব মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে পরিচালনা করে আসছিল।

মিজানের সঙ্গে ইব্রাহীম খলিলকে (৩০) গ্রেফতার করে র‌্যাব। সে ২০১৬ সাল থেকে সাভারের একটি মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিল। র‌্যাব জানায়, ২০১০ সালে মিজানের সঙ্গে পরিচয় হয় ইব্রাহিমের। আর মিজানই জসিম উদ্দিন রাহমানির সঙ্গে ইব্রাহীমকে পরিচয় করিয়ে দেয়। ২০১১ সালে মিজানের মাধ্যমেই জেএমবিতে যোগ দেয় এবং  সাভার এলাকায় জেএমবির দাওয়াতি কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে মিজানের হাত ধরে জেএমবি (সারোয়ার) গ্রুপে দাওয়াতি কাজ করতে থাকে। সে তার ইমামতি পেশার পাশাপাশি ফরিদপুর, কক্সবাজারসহ একাধিক জেলায় জেএমবির দাওয়াতি কাজ করছিল। মিজানের দাওয়াতি বলয়ের সাত সদস্যের একজন সক্রিয় সদস্য ছিল ইব্রাহীম।

 

/আরজে/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি