আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে মাদক নির্মূল করে দেখাতাম: গণশিক্ষামন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৪, জানুয়ারি ০২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১০, জানুয়ারি ০২, ২০১৮

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানমাদককে দেশের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলেন, জঙ্গিবাদের চেয়েও মাদক ভয়াবহ। ঠিকই, জঙ্গিবাদের চেয়ে মাদক ভয়াবহ। কারণ জঙ্গিরা একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে মাদক নির্মূল করে দেখাতাম।’ মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাথমিক ও  গণশিক্ষামন্ত্রী  বলেন, ‘মাদক নির্মূলের ব্যাপারে সবার ঐকমত্য লাগবে। কারণ আমাদের দুই দলে একটু সংঘর্ষ বাধলে, সুশীল সমাজ চিৎকার করে ওঠে। আমি সেদিন সংসদে বলেছি, ১৯৭১ সালে এই সুশীল সমাজ থাকলে যুদ্ধ করতেই দিতো না। কারণ তারা বলত, এত মানুষের মৃত্যুর বিনিময়ে বাংলাদেশ চাই না।’ তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে প্রয়োজন শুট অ্যাট সাইট (shoot at sight) তৈরি করা। এই শুট অ্যাট সাইট দেশের ৫০৮ টি উপজেলায় করতে হবে না, ৬৫ জেলায়ও করতে হবে না। দশটিতে করলেই মাদক ‍নির্মূল হয়ে যাবে। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু সব দল মিলে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। যে তুমি এটা করো। এটা এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। আর যদি মনে করেন, ওমুকের ছেলে খায়, তাতে আমার কী। তাহলে হবে না।’ 

একদিন পৃথিবীতে কোনও জঙ্গি থাকবে না উল্লেখ করে  প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখন যে ফর্মে আছে, সেই ফর্মে থাকবে না। আবার অন্য ফর্মে এলেও জঙ্গি থাকবে না। কখনোই ৭০০ কোটি মানুষকে জঙ্গিরা বোমা দিয়ে কন্ট্রোল করতে পারবে না। বরং সাধারণ মানুষ যেকোনোভাবে তাদের (জঙ্গি) ভেনিস করে দেবে। কিন্তু আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যদি এভাবে যুদ্ধে না নামি, তাহলে কী হবে?’

অধিদফতরের জন্য কর্মীদের জন্য অস্ত্র, ইকুইপমেন্ট ও নতুন জনবল চাওয়া হলে তার সমালোচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এক লাখ ইকুইপমেন্ট যদি নেওয়া হয় অথবা আরও এক লাখ জনবল যদি নিয়োগ দেওয়া হয়, ৫০৮টি উপজেলায় যদি ২৫টি করে নিরাময় কেন্দ্র করা হয়, প্রতিটি ইউনিয়নে যদি একটি করে নিরাময় কেন্দ্র করা হয়, তাতেও মাদক নির্মূল হবে না। এটা আমার ধারণা।’

এরপর মাদক নির্মূলের সমাধান-সূত্র দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি, এটা (মাদক) একমাত্র সমস্যা। এটা নিয়ে যদি আলোচনা হয়। হ্যাঁ, আমি মনে করি, আলোচনা হওয়া উচিত। এটা নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক, সংসদের বাইরে একমাস আলোচনা হোক, সুশীল সমাজ একমাস আলোচনা করুক। যারা যারা আলোচনা করতে চায়, করুক। সবাই মিলে যদি মনে করি, এই সমস্যাটা এক নম্বর, তাহলে এটাকে মুছে ফেলার জন্য কী করা উচিত? তাহলে কি আশ্রয় কেন্দ্র, অস্ত্র, বিনাশ্রম বা অন্য কোনও কারখানা করে দিয়ে? হবে না, আমি আজকেই লিখে দিতে পারি আমার মৃত্যুর একশ বছর পরও হবে না।  যদি বলেন, আপনি ভুল বলেছেন, তাহলে কোনও গবেষক আমার সামনে প্রমাণ করবেন, আসুন।’

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা ক্ষুদ্র অস্ত্র চেয়েছেন। মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনাকে যদি আলাদা এক লাখ পুলিশ দেওয়া হয়, তাহলে কি আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন? না এভাবে হবে না। পৃথিবীতে কী হচ্ছে, তা সবাই জানে। পৃথিবীতে জিরো টলারেন্সের দেশ আছে। মাদকের শেকড়সহ তুলতে ফেলতে হবে। আমাদের দেশ সব সম্ভবের দেশ। প্রথমে হবে না হবে না আওয়াজ হবে। আমাকে যদি গণশিক্ষায় না দিয়ে এখানে (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) দিতো, তাহলে আমি পরামর্শ দিতাম, এটার জন্য তিন মাস শুধু আলাপ হবে। কোনও অস্ত্র সংগ্রহ হবে না। মাদক আমরা এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করি কিনা। সব শ্রেণির মানুষকে জিজ্ঞাস করতাম। সবাই এই সমস্যার সমাধান চান কিনা? চিরতরে এটা বন্ধ হোক, তা চান কিনা? যদি বন্ধ করতে আমরা চাই, তাহলে একটা সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারি। কারণ রোজা করার আগেও প্রস্তুতি নিতে হয়। আমরাও তাই করতাম। তিন মাসের সময় দিতাম। মার্চ মাস সময় পর্যন্ত সময় দিতাম। এই তিন মাসে ঈমান ঠিক করে নাও। পহেলা এপ্রিল থেকে অ্যাকশন শুরু করে হবে। প্রত্যেক জেলা শহরে বড় বড় ময়দান আছে। পহেলা এপ্রিলে যে প্রথম ধরা পড়বে, যার ছেলেমেয়েই হোক, সেই ময়দানে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। শুট অ্যাট সাইট (shoot at sight)। আমার কথাটা খুব অপ্রিয় মনে হতে পারে কারও। কিন্তু আমি মনে করি, এই সমস্যাটা এমনই। এটা নিয়ে সব দলকে একমত হতে হবে। তা না হলে কেউ জার্মানির গ্রিন পার্টির মতো আন্দোলন শুরু করবে। মানবাধিকার গেলো। আছে তো আমাদের দেশে এমন।’

আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনসী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশ কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

/এআরআর/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ