জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ০২:৫৫, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৪, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

 

প্রাথমিক অবস্থায়ই প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও গোপন রাখায় নারীরা জরায়ু ক্যান্সারে ভোগেন। তবে কিছু পদক্ষেপ ও প্রযোজ্যক্ষেত্রে টিকা নিয়ে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। 

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতিবছর পাঁচ লাখ ২৮ হাজার নারী জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন দুই লাখ ৬৬ হাজার জন। জরায়ু ক্যান্সারে নারী মৃত্যুর হারে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা ১১ হাজার ৯৫৬ জন বা ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এরমধ্যে মারা যান ৬ হাজার ৫৮২ জন বা ১৫ দশমিক ছয় শতাংশ।

ব্রেস্ট অ্যান্ড সারভাইকাল ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান ও জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘এই রোগ প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিরোধ করা যায় এবং কিছু পদক্ষেপও নিলে এ রোগ হয় না। বিশেষ করে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে না দেওয়া, ঘন ঘন সন্তান না নেওয়া, একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে মেলামেশা না করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে খেয়াল রাখা এবং প্রযোজ্যক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নিলে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে স্বল্প আয়ের পরিবারে নারীদের এই রোগ বেশি হয়। আবার নারীরা সংকোচের কারণে এই রোগের কথা কারও কাছে প্রকাশ করতে চান না। এই রোগটি টেস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা যায়। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর আগ্রাসী অবস্থায় যেতে ১৫-২৫ বছর সময় লাগে। তাই সচেতনতা বাড়িয়েই এ রোগে আক্রান্ত নারীদের মৃত্যু হার কমানো সম্ভব।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার বিভাগের প্রফেসর ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি বলেন, ‘জরায়ু ক্যান্সার হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) কারণে হয়, যা প্রতিরোধযোগ্য। ভাইরাসটি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৮০ শতাংশ নারী নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হন না। বাকি ২০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা বিয়ের আগে টিকা নিলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব নারীর বিয়ের দশ বছর পেরিয়ে গেছে— তারা স্ক্রিনিং, জরায়ুর কোষ, ভায়া ও এইচপিভি ভাইরাসের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমেও এই রোগ নির্ণয় করে সচেতন থাকতে পারেন।’ তবে যেকোনও একটি টেস্ট করেও রোগ নির্ণয় করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

একসময় প্রসবজনিত কারণে নারীরা সবচেয়ে বেশি মারা যেতেন। এখন সেই হার কমেছে। তবে এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নারীরা বেশি মারা যাচ্ছেন বলে মনে করেন ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অশিক্ষা, আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে নারীরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। এই রোগের ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে চললে এবং প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করতে পারলে নারীদের এই রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।’

ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজের গাইনোকলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম বলেন, ‘জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে নারীর পাশাপাশি তার স্বামীরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তাহলে শুরুতেই রোগটি নির্ণয় করা সম্ভব হয়। মূলত ঘন ঘন সন্তান নেওয়ার কারণে এই রোগ হয়। স্বামী সতর্ক থাকলে স্ত্রীর এই ঝুঁকি থাকে না। এই রোগ প্রতিরোধে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে বিশ্বস্ত সম্পর্ক থাকা জরুরি।’

আরও পড়ুন:
জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস শনিবার


/এনআই/এসএনএইচ/

লাইভ

টপ