মতিঝিল আইডিয়ালে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১৩:২৬, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৬, জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল (ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

নীতিমালার বাইরে ছাত্রছাত্রী ভর্তি নিয়ে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডিতে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, আসন শূন্য না থাকলেও মোট ভর্তির ১৫ শতাংশ বা কমপক্ষে ৩৬০ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্কুলের গভর্নিং বডির অন্য পক্ষ এক হাজার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চায়।

এ বিষয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গভর্নিং বডিতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

অভিযোগ আছে, আসন শূন্য না থাকলেও অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির নামে বাণিজ্যের সুযোগ নিতেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কুলটির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে বর্তমানে একটি আসনও খালি নেই। গত ১ জানুয়ারি ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের তদবিরের নামে এখন এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

প্রভাবশালী এক অংশের চাপে এবার মোট ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গভর্নিং বডির সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতার নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত মানছেন না। তারা কমপক্ষে এক হাজার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চান।

এ নিয়ে অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসন শূন্য না থাকলেও বাণিজ্যের জন্য অবৈধভাবে ভর্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এগিয়ে আসা উচিত। নীতিমালার বাইরে একজন শিক্ষার্থীকেও যেন ভর্তি করা না হয়।যদি স্কুলের ভর্তি করানোর সক্ষমতা থাকে তাহলে আবার আসন শূন্য ঘোষণা করে লটারি ও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নেওয়া হোক।’

অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মতিঝিল আইডিয়ালের তিন শাখার ছয় বিভাগে ৫৪টি ক্লাসে অতিরিক্ত তিনশ’ শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব।  তবে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  প্রত্যেক ক্লাসে যদি অতিরিক্ত পাঁচ জন ভর্তি করানো যায়, তাহলে ১৫ শতাংশ ভর্তি করা সম্ভব। এই বিষষটি গভর্নিং বডিতে আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি মনে করি, খুব বেশি ভর্তি করালে অবৈধ বাণিজ্যের বিষয়টি চলে আসতে পারে। তাই নীতিমালার বাইরে ভর্তি করানো উচিত হবে না।’ 

গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গভর্নিং বডির অনেক সদস্যের সন্তান আছে। সেই বিবেচনায় কিছু অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য সভাপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু স্টেক হোল্ডাররা অতিরিক্ত আরও শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চান। তবে আমরা সরকারের নীতিমালা মেনেই শিক্ষার্থী ভর্তি করাবো। নীতিমালার বাইরে কাউকে ভর্তি করাবো না।’  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার আইডিয়াল স্কুলের মতিঝিল, রামপুরা বনশ্রী ও মুগদা শাখায় দুই হাজার দু’শত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। নতুন করে আরও এক হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে ক্লাসরুমের সংকট তীব্র হতে পারে।

/এসএনএইচ/টিএন/

লাইভ

টপ