ট্রান্সফরমারে আটকে পড়া ঘুড়ি এবং একটি শিশু

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ১৮:০৭, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

ঘুড়ি (ছবি-ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

ছোট্ট অভি বন্ধুদের নিয়ে সেদিনও ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। আকাশে রঙিন ঘুড়ি যত ওপরের দিকে যেতে থাকে, অভির মন ততটাই আনন্দে নেচে উঠে। কিন্তু ঘুড়ি ওড়ানোর সেই আনন্দই যে অভির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা কী ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিল সে! দিনমান ঘুড়ির নাটাই আর সুতায় মাঞ্জা দিতে যে হাতের অবসর ছিল না, অভির সেই হাতই এখন অসাড় হয়ে ঢেকে আছে ব্যান্ডেজের কাপড়ে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অভির শরীরের ওপরের অংশও ব্যান্ডেজে ঢাকা। ঘুড়ির সুতা জড়িয়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের শিকার অভির এখন সঙ্গী পুড়ে যাওয়ার অসহ্য বেদনা।

ঘটনাটি সপ্তাহ দুয়েক আগের। নূর আলী একাডেমি বাংলাদেশের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অভি বন্ধুদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়াতে ব্যস্ত ছিল। তার ঘুড়ির সুতা একসময় আটকে যায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে। নিচে থেকে অভি ও তার বন্ধুরা ট্রান্সফরমার থেকে ঘুড়ি নামানোর চেষ্টা করে। কিছুতেই নামছে না দেখে অভি জোরে টান দেয়। আর অমনি বিকট শব্দ করে ট্রান্সফরমারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে পুড়ে যায় অভির ডান হাত এবং শরীরের ওপরের অংশ।

সঙ্গে সঙ্গেই অভিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের শিশু ওয়ার্ডে। দুই সপ্তাহ ধরে এই শিশু ওয়ার্ডেই অভিকে নিয়ে ছোটাছুটি করছে তার বাবা-মা।

অভির বাবা মোহাম্মদ বাবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দুই ছেলে। ওদের নিয়ে কাজলাতেই থাকি। সেখানেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমি তখন কারখানাতে ছিলাম। ছেলের খবর পেয়ে ছুটে আসি।’

অভির চিকিৎসা প্রসঙ্গে বাবু বলেন, ‘‘দুই-তিন দিন পরপর ড্রেসিং করাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, ঘন ঘন ড্রেসিং করলে এটা ওর জন্য ভালো হবে। ওর হাতটা ভালো আছে কিনা, এটা নিয়ে ভয় হয়। হাতটা যেন ভালো থাকে। ডাক্তার অনেকগুলো টেস্ট করতে দিয়েছেন। ওই টেস্টগুলো করালে বোঝা যাবে ওর এখন কী অবস্থা।’

পিতল কারখানায় চাকরি করেন বাবু। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে ওষুধের খরচটা লাগছে। আর তেমন কোনও খরচ নাই। টাকার দিকে দেখি না, পোলা বাঁচাইতে হবে— এইটাই বড় কথা।’

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে অভির ছোট ভাই রাতুল। তার ভাষ্য, ‘ও (অভি) যখন গুড্ডি (ঘুড়ি) উড়াইতেছিল, তখন গুড্ডিটা ট্রান্সফরমারের লগে বাইদ্ধ্যা যায়। তখন হের লগে লাগছে। হে পইড়্যা গ্যাছে। পইড়্যা দুই তিন বার উল্টি খাইছে। সে একবার খাড়া হইয়্যা আবার উল্টি খাইছে। শেষের বার কে জ্যানি ওরে দেখছে। হেই অরে ধইরা লইসে। হে পুইড়্যা গেছে, হের গুড্ডিও পুইড়্যা গ্যাছে।’

/টিআর/টিএন/

লাইভ

টপ