৩৪ বছর পর বিমান দুর্ঘটনায় এত বাংলাদেশির প্রাণহানি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৪৪, মার্চ ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮, মার্চ ১৩, ২০১৮

বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষপ্রায় ৩৪ বছর পর বিমানের বড় দুর্ঘটনার শিকার হলো বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ-২৭-৬০০ মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে তখন যাত্রীসহ ৪৯ জন নিহত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিমান দুর্ঘটনায় পড়লেও একসঙ্গে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি। প্রায় ৩৪ বছর পর সোমবার (১২ মার্চ) নেপালে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় যাত্রী ও ক্রুসহ ৫০ জন আরোহী নিহত হয়েছেন বলে নেপালের সেনাবাহিনী জানায়। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি বলেও জানা গেছে।     

নেপাল টাইমস-এর খবরে জানানো হয়, সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৫০ আরোহীর প্রাণহানির খবর ইতোমধ্যে নেপাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও দুইজন শিশু। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নেপাল সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিশ্চিত করেছে, ৭৮ জন ধারণে সক্ষম ওই বিমানে ৪ জন ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী ও দুইজন শিশু। এই যাত্রীদের মধ্যে ছিল ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন চীনা ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক। এছাড়া বিমানে চারজন বাংলাদেশি ক্রু ছিলেন। এরমধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এরআগে, বিমান দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটে ১৯৮৪ সালে। ওই বছরের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ২৭-৬০০ মডেলের ছোট একটি বিমান চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। রানওয়ে অবতরণের সময় বিমানবন্দরের খুব কাছেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ সেই ফ্লাইটের ৪৫ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রুর সবাই নিহত হন। প্লেনটি চালাচ্ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলট কানিজ ফাতেমা রোকসানা।  এর আগে ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর প্রশিক্ষণ বিমান ডিসি-৩ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৭৯ সালের ১৮ নভেম্বর সাভার বাজারে এফ ২৭-২০০ (এস২-এবিজি) বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। ১৯৮০ সালের ৩ এপ্রিল সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্ট থেকে ছেড়ে ১০০ মিটার উচ্চতায় বিমানের ইঞ্জিন বিকল হলে বোয়িং ৭০৭-৩২০সি (ফ্লাইট এস২-এবিকিউ) রানওয়েতে ফিরে আসার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এফ২৮-৪০০০ (এস২-এসইজে) বিমান ৮৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে রওনা হয়। কুয়াশার কারণে সিলেট বিমানবন্দরের অদূরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। ২০০৪ সালের ৮ অক্টোবর এফ২৮-৪০০০ (এস২-এসইএইচ) মডেলের একটি বিমান ৭৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে গিয়ে বৃষ্টিপাতের কারণে পিচ্ছিল থাকায় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। ২০০৫ সালের ১ জুলাই  ডিসি১০-৩০ ইআর (এস২-এডিএন) বিমান ২১৬ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের সময় হেলে পড়ে। এতে বিমানের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ২০০৭ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশ বিমানের একটি ৩১০-৩০০ (এস২-এডিই) ফ্লাইট ২৩৬ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়। এ সময় ল্যান্ডিং গিয়ার অকেজো হয়ে যাওয়ায় রানওয়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে থেমে যায় বিমানটি। তবে এসব দুর্ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

/এআরআর/এমএনএইচ/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ