বেসরকারি শিক্ষকদের সমাবেশে বিশৃঙ্খলা, বিক্ষুব্ধদের নতুন কমিটি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৫১, মার্চ ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৪, মার্চ ১৪, ২০১৮

জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেসরকারি শিক্ষকদের আমরণ অনশন (ফাইল ছবি)জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে ডাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মহাসমাবেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে নেতারা সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করলেও শিক্ষকদের একাংশ তা মানেননি। তারা সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে এই অংশ নতুন কমিটি গঠন করে। সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১১ মার্চ শুরু হওয়া লাগাতার ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

বুধবার (১৪ মার্চ) বেলা ১টার দিকে সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণা করেন মহাসমাবেশের সভাপতি শিক্ষক নেতা আবু বকর সিদ্দিক। এরপর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একপর্যায়ে মাইকের নিয়ন্ত্রণ নেন তারা। নেতাদের উদ্দেশে পানির বোতলও ছুড়ে মারেন শিক্ষকরা।  

‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি’র ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মহাসমাবেশ শুরু হয় সকালে। দুপুরে শিক্ষক নেতা আবু বকর সিদ্দিক সমাবেশ সমাপ্তির ঘোষণা করে শিক্ষকদের জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শিক্ষক নেতাদের আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয়করণের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। এ জন্য তিনি শিক্ষক নেতাদের কাছে এক সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রেস ক্লাবের সামনেই অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।

জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে ডাকা মহাসমাবেশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুধবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি শিক্ষকদের। শহীদ মিনারে সমাবেশ বন্ধ করতে পুলিশ ‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি’র সমন্বয়কারী আসাদুল হকসহ দুই জনকে আটক করে নিয়ে শাহবাগ থানায়। গভীর রাতে শিক্ষক নেতারা গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমতি পেয়ে সকাল থেকে শিক্ষক নেতা ও সাধারণ শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। সকাল ১০টার দিকে কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে রাস্তার ওপর বসে ও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সমাবেশ চলাকালে বেলা ১২টার দিকে শিক্ষক নেতা আসাদুল হক সমাবেশ এক ঘণ্টার জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার করার কথা জানান। এক ঘণ্টা পর বেলা ১টার দিকে সমাবেশ সমাপ্তির ঘোষণা দিলে শিক্ষকদের একাংশ বিক্ষোভ শুরু করেন। নেতাদের দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষক নেতারা সেখান থেকে সরে যান। কয়েক মিনিট পর পুলিশ এসে শিক্ষকদের সরিয়ে দেয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিলকিস জামান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন রেজা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফয়েজ হোসেন, শিক্ষক নেতা নূর মোহাম্মদ তালুকদার, শিক্ষক নেতা জুলফিকার আলী চৌধুরী, আজিজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ এম এ আওয়াল প্রমুখ।

বিক্ষুব্ধদের নতুন আহবায়ক কমিটি

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ সংগ্রাম পরিষদ নামে ৫১ সদস্যের একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা। মো. মমিনুল ইসলামকে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আট জন শিক্ষককে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৪০ জন শিক্ষককে সদস্য করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি গঠনের তথ্য জানানো হয়। এতে দাবি করা হয়, ‘কতিপয় স্বার্থান্বেষী তথাকথিত শিক্ষক নেতারা পর্দার আড়ালে সিদ্ধান্তের নামে সরকারের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আন্দোলন বানচালের নামে গোপন সাক্ষাৎ করেন। এ পর্যায়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ সাধারণ শিক্ষক তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অবসরে যাওয়া বা অবসরে যাবেন এমন শিক্ষকদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুধু থেমেই যাবে। এমন চিন্তা থেকে সাধারণ শিক্ষকদের চাওয়া পাওয়ার প্রতিফলন ঘটাতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই মহাসমাবেশে আসা শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বসম্মতিতে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ সংগ্রাম পরিষদ নামে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।’  

 

 

/এসএমএ/এএম/

লাইভ

টপ