রড সিমেন্টের বাড়তি দামের প্রভাব পড়বে আবাসন ও উন্নয়ন খাতে

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ০১:২২, মার্চ ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪২, মার্চ ১৫, ২০১৮

রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে আবাসন খাতের ব্যয় (ছবি- ইন্টারনেট)গ্যাস সংযোগ না পাওয়াসহ দেশের আবাসন খাতে মন্দা বিরাজ করছে। এর মধ্যে কয়েক ধাপে রড ও সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় আবাসন খাত ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প আরও প্রতিকূল অবস্থায় পড়বে। দাম বাড়বে ফ্ল্যাটের। এই বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে ওঠা হবে আবাসন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ব্যাগ সিমেন্টে দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এর আগে বেড়েছে রডের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আবাসন খাত ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে।
আবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাগরিকদের জীবন-মান উন্নয়নের সঙ্গে অবকাঠামোর উন্নয়ন সরাসরি জড়িত। রাস্তাঘাট, শিল্প স্থাপনাসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে সিমেন্ট। তাই প্রতিনিয়তই বাড়ছে দেশের নির্মাণখাতে সিমেন্টের চাহিদা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সিমেন্টের উৎপাদনও থেমে নেই। গত কয়েক বছরে বাজারে যোগ হয়েছে নতুন কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিমেন্ট। কিন্তু দফায় দফায় এই সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন আবাসন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও কোম্পানির সিমেন্টের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ার আগে মানভেদে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হতো ৩৪৫ থেকে ৩৯০ টাকা। এখন প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৬৫ থেকে ৪১০ টাকা। বাজারে শাহ সিমেন্ট ৩৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪১০ টাকায়। অন্যদিকে, এক টন রডের দাম বেড়েছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। এ কারণে রডের বিক্রিও কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর ইংলিশ রোডের সিমেন্ট ব্যবসায়ী আলমগীর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হঠাৎ করেই সিমেন্টের দাম প্রতি বস্তায় ৩০ টাকার মতো বেড়ে গেছে। অনেক পাইকারি ক্রেতাই সিমেন্ট কেনা বন্ধ রেখেছেন। গত ২০ দিনে বিক্রি তিন ভাগের এক ভাগ কমে গেছে। অনেক ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন ঠিকাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টেন্ডার শিডিউলে যে দাম ধরা হয়েছিল, হঠাৎ করে তার থেকে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ দাম বেড়ে গেছে। এখন নতুন শিডিউল না করলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। রড-সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের উন্নয়ন কাজেই এর প্রভাব পড়ছে।’
জানতে চাইলে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। এতে আবাসন খাত নতুন করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়েছে। এরপরও আমরা দামটা ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।’
রিহ্যাব পরিচালক ও প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির কো-চেয়ারম্যান কামাল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুধু রড-সিমেন্ট নয়, বর্তমানে আবাসনে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণের দামই বেড়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। এতে ভবন নির্মাণে আবাসন ব্যবসায়ীদের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের এই টাকা গ্রাহকের কাছ থেকেই তুলতে হবে। ফলে ফ্ল্যাটের দাম তো বাড়বেই।’
আরও পড়ুন-
বেসরকারি শিক্ষকদের সমাবেশে বিশৃঙ্খলা, বিক্ষুব্ধদের নতুন কমিটি
৬ ঘণ্টা পর আটককৃতদের মুক্তি, অবরোধ তুলে নিলো বিক্ষোভকারীরা

/টিআর/

লাইভ

টপ