‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত কিশোরকে একদিন আগে আটকের অভিযোগ পরিবারের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৯, এপ্রিল ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৩, এপ্রিল ০৬, ২০১৮

নিহত রাকিবরাজধানীর ওয়ারীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত কিশোর মো. রাকিবকে (১৪) বুধবার (৪ এপ্রিল) বাসা থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে পুলিশ বলছে, বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে গুলিবিদ্ধ হয় রাকিব। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাকিবের বাবা চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক মহসিন হাওলাদার। পরিবার নিয়ে তিনি ওয়ারী সুপার হোটেলের পেছনে থাকেন।

মহসিন হাওলাদারের অভিযোগ, ‘আমার ছেলেকে বুধবার রাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে ওয়ারী থানার এসআই জোতিষ চন্দ্র। তখন আমি বাসায় ছিলাম না। আমার স্ত্রী ফোন করে জানায়, রাকিবকে পুলিশ থানায় নিতে আসছে। কেন নিতে এসেছে-জিজ্ঞেস করার পর স্ত্রী জানিয়েছিল, কথা বলার জন্য থানায় নিয়ে যাচ্ছে। পরে ছেলের সঙ্গে আর আমাদের দেখা করতে দেয়নি। কালকে (বৃহস্পতিবার) ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলছে।’ ছিনতাইয়ের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সাজানো বলে দাবি করেছেন তিনি।

মহসিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলের  বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। পুলিশ আমার ছেলেকে নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

পুলিশের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছে। ওই ঘটনায় আমার ছেলে জড়িত নয়। সে ওই মামলায় আসামিও নয়। এখন পুলিশ বললে তো হবে না। পুলিশ মিথ্যা বলছে। আমার ছেলের বয়স মাত্র ১৪ বছর, পুলিশ সেখানে লিখেছে ২২ বছর।’

হাসপাতালে কাঁদছেন বোন চাঁদনীরাকিবের মা রিতা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। ওয়ারী থানার এসআই  বুধবার রাতে ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন, রাকিব নাকি একটি মামলায় সন্দেহজনক আসামি। তথ্য যাচাই-বাছাই করে দিয়ে দেবো। পরদিন থানায় গেলে তারা রাকিবকে দেখতে দেয়নি। আমাকে থানা থেকে বের করে দেয়।’

বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার বিষয়ে ওয়ারীর থানার এসআই মিজান জানান, ওয়ারীর জয়কালী মন্দির এলাকায় হোমিও কলেজের পেছনে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই যুবক গুলি চালায়। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাকিব গত বছরের ৮ অক্টোবর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুলিয়া শাখার কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র খন্দকার আবু তালহা হত্যাকাণ্ডের ‘সন্দেহভাজন প্রধান আসামি’ বলে দাবি করেছেন ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তালহা হত্যা মামলার পলাতক আসামি ছিল ‘বন্দুযুদ্ধে’ নিহত রাকিব। তাকে খোঁজা হচ্ছিল।

বুধবার বাসা থেকে রাকিবকে ধরে থানায় নিয়ে আসার বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘এটা সত্য নয়। সে এর আগেও অনেকগুলো ছিনতাইয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত। গত ২ এপ্রিলেও একটি ছিনতাইয়ে ঘটনা সে ঘটিয়েছে। তালহা হত্যাকাণ্ডের সে প্রধান অ্যাকিউসড। এই হত্যাকাণ্ডের পর আশেপাশের ভবনের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার ৯ দিন পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই  দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। সেখানেও রাকিবের নাম ছিল।’

একই কথা বলেছেন ডিএমপি ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাকে আগে ধরা হয়নি। এমনকি বন্দুকযুদ্ধে নিহতের পরিচয় আমরা পরে জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি সে রাকিব। সে তালহা হত্যা মামলার আসামি। তালহাকে সেই ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। সে পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাইয়ের মামলাও রয়েছে।

 

 

/আরজে/এসটি/

লাইভ

টপ