রুনীর পা বাঁচাতে লাগবে ৪ লাখ টাকা, খোঁজ নেননি বাসমালিক

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ২৩:২৭, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৭, এপ্রিল ১৫, ২০১৮

রাজধানীর ফার্মগেটে বাসের চাপায় আহত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুনী আক্তারের (২৬) পা বাঁচাতে অন্তত ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। তবে এখনও বাসের মালিক তার খোঁজ নেননি। রুনীর পরিবারের পক্ষেও এতো টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানো সম্ভব না। বর্তমানে রুনীর কর্মস্থল তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করছে। তারা পাশে না দাঁড়ালে এও সম্ভব হতো না, বলে জানিয়েছেন তার বাবা রফিকুল আলম।

দুর্ঘটনায় আহত রুনীগত বুধবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস রুনীকে চাপা দেয়। এতে তার ডান পা থেঁতলে যায়। মতিঝিল-চিড়িয়াখানা রুটের ‘নিউ ভিশন’ বাসের চালককে যাত্রীরা তখন আটক করে পুলিশে দেয়। আটকের পর চালককে আদালতে চালান দেয় পুলিশ। বাসটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে ঘটনার চারদিন পরও আহত শিক্ষার্থীর খোঁজ নেননি বাসমালিক বলে অভিযোগ পরিবারের।

আহত শিক্ষার্থী রুনী বর্তমানে কল্যাণপুরের ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছয় তলার ৬০৪ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার তৃতীয় দফায় তার পায়ের অস্ত্রোপচার হয়েছে। রবিবার তার স্বাস্থ্যেরও অবনতি হয়েছে।

রুনীর বাবা রফিকুল আলম রবিবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত চারদিনে ৮৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিন দফায় পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। রবিবার রাতে আবার অস্ত্রোপচার করা হবে। এখন পর্যন্ত খরচ তার অফিস বহন করছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কমপক্ষে দেড় থেকে দুই মাস রুনীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। তার পায়ের মাংস নেই। সব থেঁতলে উঠে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার যে খরচ এটা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব না। আমার মেয়ে যে অফিসে চাকরি করে, সেখান থেকেই খরচ বহন করা হচ্ছে। এখনও চিকিৎসার অনেক কিছু বাকি, এতো টাকা তার অফিস খরচ করে কিনা তাও আমি বুঝতেছি না।’ 

আরও পড়ুন: বাসের ধাক্কায় থেঁতলে গেলো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পা

রফিকুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার পর বাসের মালিকপক্ষের কেউ আমাদের কোনও খোঁজ নেয়নি। তারা একবারও জানতে চাইলো না আমার মেয়েটার চিকিৎসা কিভাবে হচ্ছে?’

রুনীর বাবা স্যানিটেশনের ঠিকাদার হিসাবে কাজ করেন। জিগাতলার ট্যানারি মোড়ের ভাড়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে রুনী আক্তার দ্বিতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। রুনী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) এমবিএ’র শিক্ষার্থী। এমবিএ পড়ার পাশাপাশি তিনি তেজগাঁওয়ের রেলগেট এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘র‌্যাংগস প্রপার্টিজ লিমিটেডে’ চাকরি করেন।

ঘটনার দিন বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন রুনী। ফার্মগেটে পৌঁছালে বাসটি তাকে চাপা দেয়। এর পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রফিকুল আলম বলেন, ‘রুনীর ডান পা বাসের চাপে ফুটপাতের সঙ্গে আটকে ছিল। পুরো পায়ের মাংস থেঁতলে গেছে, মাংস উঠে গেছে। ফুটপাতের সঙ্গে ওর পায়ের মাংস লেগে ছিল।’

র্যাং গস প্রপার্টিজ লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান আহম্মদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা অফিস থেকেই চিকিৎসা খরচ বহন করছি। রুনী আমাদের ‘ফ্রন্টডেস্ক এক্সিকিউটিভ’ পদে কাজ করেন।”

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসায় ন্যূনতম ৪/৫ লাখ টাকা খরচ হবে। চিকিৎসকরা বলেছেন, হাসপাতালে তাকে অন্তত দেড় থেকে দুইমাস থাকতেই হবে। অফিস থেকে এখনও খরচ বহন করছে। আগামীতে করে কিনা তাও দেখার বিষয়। রুনীর পরিবারের পক্ষেও এতো টাকা খরচ করা সম্ভব না।’

তিনিও অভিযোগ করেন, ‘বাসের মালিক এখনও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পুলিশ আমাদের জানিয়েছিল, মালিক আসবে, কিন্তু তারা কোনও খোঁজ নেয়নি।’

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাসচালক আব্দুল মোতালেব বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তেজগাঁও থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সুমিত কুমার সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আইনগতভাবে বাস চালককে আদালতে চালান দিয়েছি। সে কারাগারে আছে, কিন্তু মালিক এখনও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। বাসটি আমাদের থানা হেফাজতে রয়েছে। আমরা আদালতকে তা অবহিত করেছি।’

/এমও/

লাইভ

টপ