ডেপুটি জেলার আবিদকে শোকজ, না. গঞ্জে বদলি

Send
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত : ২১:৫৯, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১০, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

আবিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈশাখবিরোধী তৎপরতার কারণে কারা অধিদফতরের ডেপুটি জেলার আবিদ আহমেদ লিটনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘আবিদ আহমেদ লিটনকে শোকজন করা হয়েছে। তাকে কারা ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নারায়ণগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। শোকজের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কারা গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আবিদ আহমেদ লিটন গত ১৩ এপ্রিল ফেসবুকে পহেলা বৈশাখ পালন করাকে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে বিদ্বেষমূলক স্ট্যাটাস দেন। রবিবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিষয়টি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন তৈরির সময়ই আবিদ আহমেদ লিটন এ প্রতিবেদকের কাছে স্ট্যাটাসটি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। স্ট্যাটাসের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত উল্লেখ করে স্ট্যাটাসটি সরিয়ে নেন তিনি।
আবিদ আহমেদ লিটনের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি ‘পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সম্পর্কে সচেতন হোন...!?’ শিরোনামে লম্বা একটি পোস্ট দিয়েছেন। ১৩ এপ্রিল রাত ৮টা ৭ মিনিটে তিনি এই পোস্টটি আপলোড করেন। ওই পোস্টে তিনি পহেলা বৈশাখ বরণ করে নিতে লাল-সাদা রঙের ব্যবহারকে হিন্দুদের শাঁখা-সিঁদুরের রঙের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রমনার বটমূলে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানকেও ইসলাম ধর্মের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ এসো......’ গান নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তিনি। এই গানের ‘অগ্নিস্নানে সুচি হোক ধরা’ অংশটি নিয়ে লিখেছেন, আগুন পবিত্র করার ক্ষমতা রাখে—এ বিশ্বাস হিন্দুদের। মুসলমানদের পক্ষে এ ধরনের গান গাওয়াকে শিরক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
পহেলা বৈশাখের আরেক অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবিদ আহমেদ লিটন। এই মঙ্গল শোভাযাত্রায় মোটিফ হিসেবে পেঁচার ব্যবহারকে তিনি হিন্দু দেবী লক্ষ্মীর বাহনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবিদ লিখেছেন, শয়তান কৌশলে বাঙালি চেতনা পালনের নামে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের দিয়ে শিরক করাচ্ছে। যে কারণে তিনি সব মুসলিমকে তওবা করে সঠিক পথের পথিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, এমন কর্মকর্তারা বলছেন, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দেওয়া এসব পোস্ট জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়। এটা হয়তো সাদা চোখে দেখা বা বোঝা যাবে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রচারণা চালানো হলে সাধারণ একজন তরুণ ধীরে ধীরে জঙ্গিবাদী মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে। এসব উসকানিমূলক পোস্ট দেখে কেউ কেউ সেল্ফ র্যা ডিক্যালাইজডও হয়ে যেতে পারে। তাই বিষয়গুলোকে আরও বেশি কঠোর নজরদারির মধ্যে নিয়ে আসা উচিত।
এদিকে, কারা সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আবিদ কারা অধিদফতরের গোয়েন্দা শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এই কর্মকর্তা ভেতরে ভেতরে কারাগারে আটক জঙ্গিদের প্রতি অনুকম্পা দেখিয়ে সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।
উল্লেখ্য, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা জারি করে এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি নির্দেশনা জারি করে কারা অধিদফতর। নির্দেশনায় কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফেসবুকে পোস্ট ও ছবি আপলোডের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে ২০১৬ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলা হয়।
আরও পড়ুন-
চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় দুই শতাধিক শ্রমিক
ঢাবিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সহসভাপতি গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৬

/টিআর/

লাইভ

টপ