রাজীবকে বাঁচানো গেলো না

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:৪৯, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৫, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

রাজধানীর কাওরানবাজারে দুই বাসের চাপায় আহত রাজীব ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজীবের খালা জাহানারা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজীবকে যখন ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হচ্ছিলতিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আমাদের জানিয়েছেন রাজীব আর নেই। আমরা সবাই হাসপাতালে আছি।’
রাজীব ছিলেন বাপ-মা হারা। ছোটবেলা থেকেই খালাদের কাছে বড় হয়েছিলে তিনি। যাত্রাবাড়ীর মিরাজিবাগে একটি মেসবাসায় ভাড়া থেকে রাজীব হোসেন তিতুমীর কলেজে পড়াশোনা করতেন। একই সঙ্গে সে বরিশালের একটি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স করছেন। তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান (১৩) ও আব্দুল্লাহ (১১) দুজনই রাজধানীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পড়ে। নিজের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি ভাইদের খরচও বহন করতেন রাজীব।  

এর আগে, রাজীবের চিকিৎসার জন্য ডা. শামসুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের অন্য সদস্যরা ছিলেন নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অসিত চন্দ্র সরকার, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মজিবুর রহমান, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন, অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম ও অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে সার্ক ফোয়ারার সামনে দুই বাসের চাপায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের (২২) হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ৪ এপ্রিল বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজীবকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ৬ এপ্রিল রাজীবের চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শামসুজ্জামান শাহীন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, রাজীব এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। কারণ, তার হেড ইনজুরি আছে। মাথার সামনের অংশ আঘাতপ্রাপ্ত। মাথার হাড়ে ফাটল আছে।

/এআরআর/এমও/এমপি/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ