‘আন্দোলনকারীদের অপমান বা অ্যাসল্ট করার জন্য আনা হয়নি’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫২, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৬, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বক্তব্য রাখছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত তিন ছাত্র নেতাকে অপমান বা অ্যাসল্ট করার জন্য আনা হয়নি। তারা কোনও ওয়ান্টেড ব্যক্তিও না। ভিসির বাংলোয় হামলার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরিও কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। তাদের সহযোগিতার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি অন্যভাবে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। তিনি শিক্ষার্থীদের চোখ বেঁধে আনার বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনকারী তিন নেতার চোখ বাঁধার বিষয়টি অস্বীকার করেন ‍তিনি।

সোমবার (১৬ এপ্রিল) কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন যুগ্ম-আহ্বায়ককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তুলে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একটি কালো গ্লাসের মাইক্রোবাসে করে তাদের মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তিন শিক্ষার্থী হলেন—রাশেদ খান, নুরুল হক ও ফারুক হাসান। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলনের সময় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে যাচ্ছিলেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘তাদের আন্দোলন আমাদের কোনও বিষয় না। আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করেছেন। আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বক্তব্য দিয়েছেন।  আন্দোলনের বিষয়ে রাজনৈতিক ও সরকারিভাবে একটি ঘোষণাও এসেছে। এ বিষয়ে আমাদের কোন ধরনের কোনও অবস্থান নেই। ভিসির বাংলোয় যে আক্রমণ হয়েছে, যে নাশকতা হয়েছে সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলা আমরা তদন্ত করছি। আমরা কাজ করছি। আমাদের টিম কাজ করছে।’

তিনি বলেন,‘সেই ঘটনায় আমাদের টিম এখন পর্যন্ত যে এভিডেন্স কালেক্ট করেছে তার মধ্যে আমরা অনেক ভিডিও ফুটেজ পেয়েছি, অনেক স্টিল ছবি পেয়েছি। বিশেষ করে ভিডিও ফুটেজেগুলোয় থাকা চেহারাগুলো আমরা চিনি না। আমরা মনে করি যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, যারা হলে থাকে, একসাথে চলে। তাদেরকে দিয়ে আইডেন্টিফাই করা যাবে। আমাদের জন্য আইডেন্টিফাই করা সহজ হবে। তারই অংশ হিসেবে আমরা ধরে নিয়েছিলাম,তারা (আন্দোলনকারী তিন নেতা) যদি কাউকে আইডেন্টিফাই করতে পারে, তাহলে আমরাও তদন্ত কাজটি গতিশীল হবে, আমরা এগুতে পারবো। আসলে পারপাস ছিল এই। এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি,তাদের সঙ্গে যারা আন্দোলন করছে তারাও ভিসির বাংলোর আক্রমনের বিচার চায়। আন্দোলনকারীরা সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চায়।’

আন্দোলনকারী ওই তিন ছাত্রকে ডিবি কার্যালয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘তাদের অপমান বা অ্যাসল্ট করার জন্য আনা হয়নি। তারা কোনও ওয়ান্টেড ব্যক্তিও না।  ভিসির বাংলোয় আক্রমণের বিষয়ে সরাসরি কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি। তাদের সহযোগিতার জন্য ডাকা হয়েছে। যখন তারা বলেছে, তারা বিষয়টি অন্যভাবে বিবেচনা করছে, অন্যভাবে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করছে, যখন আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। তখন আমরা তাদের বলেছি, আপনারা যদি হেল্প করতে না চান, তাহলে আপনারা যেতে পারেন। পরবর্তীতে যদি আমাদের হেল্প লাগে, আপনারা হেল্প করলে তদন্ত কাজটি সহজ হয়।’

ডিবির যুগ্মকমিশনার বলেন,‘আন্দোলনকারীদের মামলা প্রত্যাহারের দাবির সঙ্গে তাদের আনার কোনও সম্পর্ক নাই উল্লেখ করে বলেন, ভিসির বাসভবনে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। তারা মামলা প্রত্যাহার চেয়েছে। প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তারা সকাল বেলা। তখন কিন্তু তারা অ্যারেস্ট হয়নি। সুতরাং মামলা প্রত্যাহারের দাবির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নাই।’  

মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বলেন,‘ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের কোনও বিষয় নেই। মামলার প্রত্যাহার তদন্ত সাপেক্ষে হবে। একই বিষয় তিনি আবার বলেন, ‘তদন্ত করে দেখা হবে। পরবর্তীতে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা পরবর্তীতে দেখা যাবে।’

এই ঘটনায় এর আগেও আরও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,‘এটা নতুন না। যখন থেকে মামলাটি ডিবিতে আসছে, তখন থেকেই অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমরা যাদের মনে করেছি, যেসব ছাত্র বেশি পরিচিত তাদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গিয়ে খোঁজ নিয়েই জানতে পারবেন, তাদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’  

ছাত্রদের অভিযোগের বিষয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নাই বলেও মন্তব্য করেছেন আব্দুল বাতেন।

ছাত্রদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন,‘তারা যে বক্তব্য দিয়েছে, তাদের ব্যাখ্যা তারাই দিতে পারবেন।’

হামলাকারীরা কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাকি বহিরাগত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্তের অগ্রগতি যথেষ্ট আছে। যখন বলার দরকার বোধ করবো, তখন আমাদের অথরিটি বলবে। তবে এ বিষয়ে এখনই আমি কিছু বলতে রাজি না।’

/এআরআর/টিএন/

লাইভ

টপ