প্রাথমিকের সমমর্যাদা রেখেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি নীতিমালা অনুমোদন

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ২১:৫৯, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৬, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

শিক্ষা মন্ত্রণালয়দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষকদের সমান মর্যাদা ও বেতন কাঠামোর বিধান রেখে তৈরি খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আজ মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) অনুমোদিত এই নীতিমালা অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে আগামীকাল বুধবার (১৮ এপ্রিল)। অর্থ বিভাগ অনুমোদন দিলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
জানতে চাইলে নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিব এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সহকারী সচিব মো. আব্দুল খালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১৫ মার্চ চূড়ান্ত সুপারিশ করে ১১ সদস্যের কমিটি। ওই সুপারিশের পর অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগ নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে। মঙ্গলবার নীতিমালার ফাইল উপস্থাপন করলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর অনুমোদন দেন।’
কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই নীতিমালায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন কাঠামো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমমান উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে অর্থ বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজন। তাই বুধবার সকালে অর্থ বিভাগে তা পাঠানো হবে। অর্থ বিভাগ অনুমোদন দিলে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ নীতিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।
এর আগে, নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদ গত ১৫ মার্চ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, নীতিমালায় ইবতেদায়ি শিক্ষকদের মর্যাদা প্রাথমিক শিক্ষকদের সমমান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ ও মাদ্রাসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা শুরুর পর বিনা বেতনেই কার্যক্রম চলতে থাকে। বর্তমানে দেশে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ছয় হাজার ৯৯৮টি। ব্যানবেইসের ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা তিন হাজার ৪৩৩টি। এর মধ্যে অনুদান পাওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা এক হাজার ৫১৯টি। এসব মাদ্রাসায় ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের একই পরিপত্রে নিবন্ধিত হয় দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা। শুরু থেকেই ৫০০ টাকা করে ভাতা পান এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। তবে পরে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের আওতায় আনা হলেও সেই সুবিধা পাননি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। শুধু তাই নয়, একই শিক্ষাব্যবস্থায় দাখিল মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত ইবতেদায়ির শিক্ষকরা ৯ হাজার ৯১৮ টাকা বেতন পেলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বেতন মাত্র আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন মাত্র দুই হাজার ৩০০ টাকা।
এই বৈষম্য দূর করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান বেতন পাওয়ার জন্য স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করেছেন। সর্বশেষ জাতীয়করণের দাবিতেও আন্দোলন করেন তারা।
এ ছাড়া, আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পর আদালত বৈষম্য দূর করতে তিন মাসের মধ্যে শিক্ষকদের আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন মন্ত্রণালয়কে। আদালতের এই নির্দেশের পর গত বছরের ৪ অক্টোবর কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রওনক মাহমুদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ইবতেদায়ি শিক্ষকদের প্রাথমিকের সমান মর্যাদা ও সেই অনুযায়ী বেতন কাঠামো উল্লেখ করে নীতিমালা করার চূড়ান্ত সুপারিশ করে।
আরও পড়ুন-


কুমিল্লা সরকারি কলেজের জমি দখলের অভিযোগ রাইফেলস ক্লাবের বিরুদ্ধে

/টিআর/

লাইভ

টপ