অধ্যক্ষের অবহেলায় ১৩ শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার অভিযোগ

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১৮:২৩, মে ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০৪, মে ১৭, ২০১৮

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

অধ্যক্ষের অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চলতি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায়  বরিশালের হিজলা উপজেলা আলীগঞ্জ আলীম মাদ্রাসার ১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, নিবন্ধন ও পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য জমা দেওয়া লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে বরিশাল সদরে অবস্থান নিয়েছেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গাফফার আনসারী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রাশেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘ মাদ্রাসার ১৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারার অভিযোগ পাওয়ার পর জানতে পারি, তাদের নিবন্ধনই করেননি অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাৎ করার এই বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অবহেলা, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আমি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। মাদ্রাসাটি পরিচালনা করার জন্য নতুন করে একজন শিক্ষককে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এটিএম মঞ্জুরুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুনেছি উনি (গাফফার আনসারী) বরিশাল সদরে থাকছেন। নিবন্ধন না হওয়া ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করা সম্ভব হয়েছে। আগামী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে যে জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি।’

গত ২ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে মোশারফ, আলামিন, মিলন, সাদেকুন নাহার ও জান্নাতসহ ১৩ জন শিক্ষার্থীর আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিবো, দিচ্ছি, করে হিজলা উপজেলার আলীগঞ্জ আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যাতেও প্রবেশপত্র দেননি। উপায় না দেখে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টির খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের নিবন্ধনই হয়নি। শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগে জানান নিবন্ধন ও ফরম পুরণের জন্য অধ্যক্ষ ৮ থেকে ১০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। 

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করার পর ওই শিক্ষার্থীরা যাতে পরের বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন সে ব্যবস্থা নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু জাফর রাশেদ।  

এ ঘটনার পর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই নির্দেশ দেবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (মাদ্রসা-২) আব্দুল খালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন না হওয়ার বিষয়টি জানার পরে তা সুরাহা করেনি অধ্যক্ষ। এর আগে মাদ্রাসায় অনিয়ম করার কারণে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। ২০০২ সালে দশ মাস বহিষ্কার থাকার সময় ওই বছর ১১ অক্টোবর তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠানের বেতন বিলে স্বাক্ষর করেন। কর্তব্যে চরম অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মন্ত্রণালয়কে পত্র দেন।

/টিএন/

লাইভ

টপ