ব্রাজিল যাওয়া হলো না মামুনের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৫:৩৭, মে ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৮, মে ১৭, ২০১৮

লাশআর কয়েক দিন পর ব্রাজিল যাওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইটের তারিখ জানতে তাই ঢাকায় আসা। উঠেছিলেন একটি আবাসিক হোটেলে। রাতটা সেখানে কাটানোর পর সকালে যাওয়ার কথা ছিল বিদেশে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারতে। কিন্তু বিধিবাম! হোটেলের ঘুমটাই জীবনের শেষ ঘুম হয়ে গেলো। সব কাজ গুছিয়ে নেওয়ার পরেও আর ব্রাজিল যাওয়া হলো না মামুনের। নিহত মামুনের স্বজনদের কাছ থেকে এসব তথ্যই পাওয়া গেছে।

জানা যায়, রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার ‘বন্ধু আবাসিক হোটেল’ থেকে মো. মামুনুর রশিদ মামুনের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই হোটেলে মামুনের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই মো. জাবেদ (২৭) অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার (১৬ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল্লাহ বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মামুনের মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। মৃতের চাচাতো ভাই জাবেদ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে পুরানা পল্টন ‘বন্ধু আবাসিক হোটেল’-এর ম্যানেজার মো. হাসান জানান, মঙ্গলবার (১৫ মে) রাতে ওই দুই তরুণ আমাদের হোটেলের পঞ্চমতলার ৫০৫ নম্বর কক্ষে ওঠেন। রাতে তারা বাইরের একটি হোটেল থেকে চিকেন-গ্রিল খেয়ে রুমে যান বলে আমরা জানতে পারি। এরপর বুধবার (১৬ মে) ভোরে তাদের মধ্যে একজন ওই কক্ষ থেকে ফোন করে জানান তারা খুবই অসুস্থ। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই তারা দুজন প্রায় অচেতন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মধ্যে মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, মৃত মামুন নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার রথি গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মামুন ছোট।

এ ঘটনায় মৃত মামুনের অন্য চাচাতো ভাই মো. সোহাগ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘মামুন ব্রাজিল যেতে তার ফ্লাইটের তারিখ জানতে ঢাকায় আসেন। এজন্য তার সঙ্গে মো. জাবেদও এসেছিল। তাদের অসুস্থতার কথা শুনে ঢাকায় আসি।’

হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ জাবেদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকালে পুরানা পল্টন এলাকার একটি হোটেল থেকে চিকেন-গ্রিল খেয়ে তারা হোটেল কক্ষে যায়। ওপরে ওঠার সময় একটি কোমল পানীয় কোক সঙ্গে করে নিয়ে যায় তারা। ওই রাতে মামুন ও জাবেদ সেটির অর্ধেক করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে মধ্যরাতে মামুন কয়েকবার বাথরুমে যাওয়া-আসা এবং বমি করে। তখন জাবেদেরও একই অবস্থা হয়। এ অবস্থায় কক্ষে থাকা ল্যান্ডফোন দিয়ে হোটেল ম্যানেজারকে বিষয়টি জানানোর পর হোটেলের লোকজনই তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’

 

 

/এসজেএ/এআইবি/এএইচ/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ