ঢাবিতে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীদের শোকজ নোটিশ

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:২৫, মে ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৫, মে ১৮, ২০১৮

 

শোকজ নোটিশ

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে রগ কাটার ভুয়া খবর ফেসবুকে ছড়ানোর ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ছাত্রীদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। গত মঙ্গলবার (১৬ মে) থেকে হল অফিসে ডেকে ছাত্রীদের এ নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীর সই করা ওই শোকজ নোটিশের জবাব ছাত্রীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, অসত্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে ওই ছাত্রীদের কাছে। ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, পরিকল্পিতভাবে হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে মারধর ও জুতোর মালা পরানোর অভিযোগের’ ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে এতে।

এ নোটিশ পেয়ে ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, ‘হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ওই রাতের ঘটনায় ছাত্রীদের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিষদ ও সিন্ডিকেট শাস্তির সুপারিশ করেছে। নোটিশ প্রাপ্তির দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর না দিলে একতরফাভাবে কর্তৃপক্ষ শাস্তির ব্যবস্থা নেবে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক ছাত্রী বলেন, আমরা হল ছাত্রলীগ সভাপতি এশার লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তারপরও তালিকায় আমাদের নাম দেওয়া হয়েছে। হল থেকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেটার উত্তর দিয়েছি। এখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা নতুন করে হয়রানির আশঙ্কা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘তাদের বক্তব্য জানার জন্য এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রক্রিয়া। কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

গত ১০ এপ্রিল রাতে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তার বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানমের পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগ ওঠার পর উত্তেজিত ছাত্রীরা ইফফাত জাহান এশাকে লাঞ্ছিত করে। অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পেয়ে ছাত্রলীগ থেকে ওই রাতেই এশাকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এশাকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরে রগ কাটার অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। পরে এশাকে হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে প্রশাসন।

 

/এএম/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ