২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে বরাদ্দ অপ্রতুল

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ০২:৩৩, জুন ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৪, জুন ১৫, ২০১৮

শিশু শ্রমিক (ফাইল ছবি)২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের আওতা থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে এবারের বাজেটেও আলাদা করে শিশু বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন যে বরাদ্দ তা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই বরাদ্দ দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম এবং ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না।

লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে অর্থনৈতিকভাবে কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা ছিল ৬৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন। তার মধ্যে ৬০ দশমিক শূন্য সাত মিলিয়ন শ্রমশক্তি কর্মরত। অর্থাৎ বেকারত্বের হার চার দশমিক তিন। বর্তমানে প্রায় এক দশমিক সাত মিলিয়ন শিশুশ্রমিক আছে। এরমধ্যে এক দশমিক দুই আট মিলিয়ন শিশু ৩৮ টি ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত রয়েছে।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০ হাজার শিশুকে মাসিক এক হাজার টাকা হারে উপবৃত্তি প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ৪০ হাজার শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ৪০ হাজার শিশুকে কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, শিশুশ্রম নিরসনের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মাধ্যমে পরিবীক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা, মনিটরিং জোরদার এবং জেলা পরিষদের নেতৃত্বে গঠিত ফোরামের মাধ্যমে শিশুশ্রম নিরসনে কাজ করা হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এর আগে সরকারের শিশুশ্রম নিরসনে তিনটি প্রকল্প ছিল। সেগুলোর মধ্যে তৃতীয় প্রকল্পটিতে নানা অনিয়মের কথা শোনা গেছে। যদি সত্যিকার অর্থে শিশুদের হাতে অর্থ যায়, যদি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে করা যায় তাহলে শিশুরা সুফল পাবে। অনেক সময় ভূঁইফোঁড় এনজিওদের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। দেখা যায়, এই এনজিওগুলো অর্থ হাতিয়ে নেয়। ফলে তা শিশুদের কোনও কাজে আসে না। এবারে ২৮৪ কোটি টাকার একটা প্রকল্প অনুমোদন করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ঘোষণা দিয়েছে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সবধরণের শিশুশ্রম বন্ধ হবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, যেসব সেক্টরে শিশুশ্রম নির্ণয় করা যায় না সেসব সেক্টরে শিশুশ্রম চলে যাচ্ছে। সাপ্লাই চেইনে কিছু শিশুশ্রম চলে যাচ্ছে যেমন, গার্মেন্টসে বলা হচ্ছে শিশু নেই, কিন্তু বোতাম বানাচ্ছে, চেইন বানাচ্ছে ওখানে শিশুশ্রম থাকছে।’

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে যে কর্মসূচি আছে তা আরও বেগবান করতে হবে। বিশেষ করে মালিকপক্ষকে শিশুশ্রম নিরসনে কাজে লাগাতে হবে। অনেক সময় মালিকরা বলেন,  গরিব লোকের সন্তান আমাকে দিয়ে যায়, না নিয়ে পারি না। কিন্তু আমি মনে করি যে উনারা যদি স্ট্রিক্ট হন যে শিশুকে কাজে নেব না, আমি কাজে নিলে আমার ওপর মামলা হবে। তাহলে কিন্তু শিশুশ্রম নিরুৎসাহিত হয়ে যেতো।’

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুদের আইডেনটিফাই করে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বের করে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার এটা ঠিক আছে। কিন্তু সংখ্যা যেটা, আমাদের তো দেশে ১২ লাখ শিশু শ্রমিক আছে যারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত। সরকারের টার্গেট আছে এদের ২০২১ সালের মধ্যে মুক্ত করবে। যদি ৪০ হাজার এই বছরে করি তাহলে তো হাতে আছে মাত্র আড়াই বছর। সেদিক থেকে আমাদের বাজেটটা খুবই কম। আমাদের কৌশলটা ঠিক কিন্তু সংখ্যাটা খুবই অপ্রতুল। আমাদের যে টার্গেট সেটা ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চাইলে এই বাজেট দিয়ে হবে না। আরও অনেক বেশি বাজেট লাগবে।’

 

 

/এএম/

লাইভ

টপ