বাস টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:৫১, জুন ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫২, জুন ১৫, ২০১৮

এমন উপচে পড়া ভিড় ছিল বাস টার্মিনালেপরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ির পানে ছুটছেন শহরের মানুষ। অনেকেই ইতোমধ্যে চলে গেছেন; অনেকেই যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। কারও টিকিট আগে থেকেই কাটা কেউবা হন্যে হয়ে খুঁজছেন টিকিট। বৃহস্পতিবার গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগের সেই চিরচেনা রূপ। সকাল থেকে যাত্রীর আনাগোনা না থাকলেও বিকালের পর থেকে তিল ধারণের জায়গা নেই বাস টার্মিনালে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, এবার ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষ বাইরে যাবেন।  
সন্ধ্যার পর থেকে খালি বাস এসে খুব বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হচ্ছে না। মুহূর্তের মধ্যে ভরে যাচ্ছে বাসের সিট। আর যারা সিট পাচ্ছেন না তাদের জায়গা হচ্ছে হয় বাসের ইঞ্জিন কাভারে আর না হয় ছাদে। পরিবারের কাছে যাওয়ার আনন্দ তাদের সব কষ্ট, দুর্ভোগ এবং ঝুঁকিকে ম্লান করে দিচ্ছে।

কুষ্টিয়াগামী যাত্রী কলেজ শিক্ষার্থী মিনহাজ দীর্ঘদিন পর ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন। বাসে সিট ফাঁকা নেই। তাই বসে গেছেন ইঞ্জিন কাভারে। কিন্তু টিকিটের দাম সেই একই দিতে হয়েছে তাকে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু করার নেই, বাড়ি যেতে হবে। মা অপেক্ষা করছেন। ক্লাসের পাশাপাশি টিউশনি করি , তাই যেতে একটু দেরি হয়ে গেছে। না হলে আরও আগেই বাড়ি যেতাম।’

অন্যদিকে, যশোরগামী বাসের কাউন্টারের সামনে ছেলেকে নিয়ে বসে আছেন আয়েশা আকতার। তার স্বামী টিকিট খুঁজছেন হন্যে হয়ে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছি ঈদ করতে, কিন্তু আমার স্বামী টিকিট পাচ্ছেন না। তাই দেরি হচ্ছে ‘

এদিকে বাস কাউন্টারগুলোতে কথা বলে জানা গেছে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অনেক বাসই খালি গেছে। নির্দিষ্ট সময় গিয়ে আবার ফেরত আসার জন্য বাস ছেড়ে দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিকালের পর যাত্রীদের চাপে হিমশিম খেতে হবে এই কথা তারা আগে থেকেই জানতেন।

দক্ষিণবঙ্গের গাড়ি সার্বিক সুরভি ডিলাক্সের ম্যানেজার আজহার জানান, ফেরি ঘাটে জ্যাম নেই। তাই গাড়ি সময়মতো পৌঁছে যাচ্ছে। তবে যাত্রীর চাপ বাড়লে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। মেহেরপুর ডিলাক্সের কাউন্টার ম্যানেজার আলাউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৃহস্পতিবার শেষ অফিস। অফিসের পর চাপ বাড়ছে যাত্রীর। তবে অন্যবার থেকে এবার একটু কম।

একই চিত্র মহাখালী আন্তঃ জেলা বাস টার্মিনালেও। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাস কাউন্টারের কর্মচারীদের। এখানেও টিকিট না পেয়ে অনেককেই হতাশ হয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে একজন গার্মেন্টস শ্রমিক ফজলু। তিনি বলেন, অফিস শেষ করে চইলা আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত টিকিট পাই নাই। দেখি খুঁজতেছি আর নাইলে দাড়ায় জামুগা।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,  ‘এখন পর্যন্ত ঈদযাত্রা স্বস্তির। আশা করছি এবার ঝামেলামুক্ত ঈদযাত্রা হবে সবার। আমি সকালেও খোঁজ নিয়েছি মহাসড়কে কোনও যানজট নেই। প্রতিবার টাঙ্গাইলে যে সমস্যা হয় এবার সেরকম কোনেও সমস্যা নেই। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট নেই, ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কও ফ্রি। এবার যাত্রীরা ভালোভাবে ঘরে ফিরছে। রাস্তার জন্য কোথাও কোনও যানজট নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) বিকালে গার্মেন্টস ছুটি হবে, যাত্রীদের অনেক চাপ থাকবে। সড়কে যানবাহন বেশি থাকবে। তবে আমার বিশ্বাস ভারী বর্ষণ না হলে গাড়ি আটকে থাকবে না। ঘরে ফেরা যাত্রীদের জন্য এবার পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি রয়েছে। তবে যদি গাড়ি শর্ট হয়, তাহলে বিআরটিসির বাস প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে সহযোগিতা করবে।’

 

 

/এসও/এএম/

লাইভ

টপ