ফাঁকা নেই বাসের ছাদও!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:৩৮, জুন ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৪০, জুন ১৫, ২০১৮

ছাদেও তির ধারণের ঠাঁই নেইপরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ পালনের আকুলতা মানে না কোনও বাধা। তাই সিট না পেলেও বাসের ছাদে বসে যেতেও দ্বিধা করছেন না অনেকেই। তাদের যুক্তি, দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততার পর এই তো সুযোগ পরিবারের সান্নিধ্য পাওয়ার। তাই যেভাবেই হোক বাড়ি যেতে হবে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাসের ছাদের টিকিট বিক্রি করছে কিছু বাস কোম্পানি।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) বিকালের পর থেকেই গাবতলী বাস টার্মিনাল ফিরে পায় তার ঈদের সময়কার চিরচেনা রূপ। সকাল থেকে সারাদিন যাত্রীর আনাগোনা কম থাকলেও বিকালের পর থেকে গাবতলী বাস টার্মিনালে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। দক্ষিণবঙ্গের গাড়ির টিকিট থাকলেও উত্তরবঙ্গের গাড়ির টিকিট মিলছে না এই শেষ সময়ে। তাই যে করেই হোক গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন বাসের ছাদ। অপেক্ষাকৃত কম ভাড়া এবং সময়মতো যাওয়ার তাগিদে ছাদে চড়েই যাচ্ছেন অনেকে।

ছাদে যাত্রী নিয়ে টার্মিনাল ছাড়ছে একটি বাসদিনাজপুরগামী গোবিন্দগঞ্জ পরিবহন তার একটি। এই বাসের ছাদে দেখা গেলো তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ছাদে চড়ে যাচ্ছেন বেসরকারি কোম্পানির চাকরিজীবী ফয়েজুল ইসলাম। ৩০০ টাকা দিয়ে বাসের ছাদে উঠেছেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নন তিনি। তাই বাসে সিট না পেয়ে উঠে গেছেন ছাদে। ফয়েজুলের মতো আরও ২৫ জন যাত্রী ছাদের ওপর উঠেছেন। তাদের সবার গন্তব্যই দিনাজপুর। ছাদে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও এভাবে যাচ্ছেন তারা। শুধু এই বাসে নয়, উত্তরবঙ্গগামী আরও বেশ কয়েকটি বাসের ছাদে দেখা যায় একই রকম চিত্র।

বাসের ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ হলেও মানছেন না কিছু বাসের কর্মচারী। গোবিন্দগঞ্জ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজারের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি তার কাছে নাম জানতে চাওয়া হলেও তিনি তা বলতে রাজি হননি। এমনকি বাসের হেল্পারের কাছেও মেলেনি সদুত্তর। অথচ ছাদে যাত্রী বহন করার তদারকির কাজে তিনি নিজেই নিয়োজিত।  

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা নিষিদ্ধ। তবে গাবতলী আমাদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ওইখানের ইউনিয়ন আলাদা।

গাবতলী বাস টার্মিনালে দায়িত্বরত বিআরটিএর ভিজিলেন্স টিমের সদস্যরা জানান, তারা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।  বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাকে ছবিসহ লিখিত অভিযোগ দিলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো। ইতোমধ্যে আমরা অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। অনেকে টিকিটের দাম নির্দিষ্ট ভাড়া থেকে বেশি রাখছিল। আমাদের কাছে যাত্রীরা অভিযোগ দেওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

   

 

/এসও/এএম/

লাইভ

টপ