বিশেষ যত্নই সুস্থ রাখবে নবজাতককে

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ২১:১৬, জুলাই ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৬, জুলাই ১৩, ২০১৮





এক নবজাতকসম্প্রতি নিশি আক্তার ও অমিত হাসান দম্পতি মা-বাবা হয়েছেন। তাদের এ খুশির সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেক দুশ্চিন্তা: শিশুর যত্ন কীভাবে নেবেন। একই অবস্থা ফারহানা আকতার ও সাঈদ মামুনুর রহমান দম্পতির। এক্ষেত্রে নবজাতক শিশুর বিশেষ যত্নের প্রতি সতর্ক থাকতে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের বলছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মতে, এই পৃথিবীতে আসা নতুন শিশুটি সবার বিশেষ যত্নের মাধ্যমেই পেতে পারে সুন্দর ও সুস্থ জীবন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু রোধে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতি হাজারে শিশুমৃত্যু ২০ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে শিশুর পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং নবজাতকের বিশেষ যত্নের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
আজিমপুর নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাউন্সিলর হাবিবা সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নবজাতক শিশুর জন্মের পর থেকে দুই বছর পর্যন্ত তার সঠিক খাবার দিতে হবে। নবজাতকের জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরু করা এবং ছয় মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। ১৮১ দিন থেকে আট মাস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত শিশুকে পরিবারের অন্যদের মতো খাবার খাওয়াতে হবে। এজন্য দিনে দুবার ২৫০ মি.লি. বাটির অর্ধেক বাটি শক্ত বা নরম খাবার খাওয়াতে হবে। এছাড়া দিনে দুবার পুষ্টিকর হালকা খাবার খেতে দিতে হবে এবং মায়ের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নয় মাসের শুরু থেকে ১১ মাস পর্যন্ত শিশুর খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিনে তিন বার ২৫০ মি.লি. বাটির অর্ধেক খাবার খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া দিনে দুবার পুষ্টিকর হালকা খাবার খেতে দিতে হবে এবং মায়ের দুখ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। ১২ মাস থেকে ২৩ মাস পর্যন্ত সময়ে শিশুকে দিনে তিন বার ২৫০ মি.লি. বাটির পুরো খাবার খাওয়াতে হবে। এছাড়া দিনে দুবার পুষ্টিকর হালকা খাবার খেতে দিতে হবে এবং মায়ের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে।’
শিশুর বিপদচিহ্নহাবিবা সুলতানার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী সাত মাসের শুরু থেকে ২৩ মাস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত শিশুকে যেসব খাবার দিতে হবে সেগুলো হচ্ছে:
মাছ, মুরগি, কলিজা, ডিম ও অন্যান্য মাংস
গাঢ় সবুজ শাক-সবজি (লাল শাক ও গাঢ় সবুজ শাক), কুমড়া ও গাজর, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ও আম, শিমের বিচি, মটরশুঁটি ও বিভিন্ন ধরনের ডাল ও শস্য দানা
দই, পনির ও দুধ দিয়ে তৈরি খাবার (যেমন: পায়েস, হালুয়া)
ভাত ও রুটি
নবজাতকের নয়টি বিপদচিহ্নের প্রতি গুরুত্ব দেন কাউন্সেলর হাবিবা সুলতানা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নাভি পাকা, বুকের খাঁচা দেবে গেলে, অনবরত বমি হওয়া, নিস্তেজ হয়ে পড়া, জ্বর অথবা শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, দুধ খেতে না পারা, খিঁচুনি এবং গায়ে ফুসকুড়ি হওয়া— এই বিপদচিহ্নগুলোর কোনোটি দেখা গেলে শিশুকে অবশ্যই দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।’
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন পরিবার পরিকল্পনা ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মীর্জা কামরুন নাহার। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে মায়ের খুব যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। অনেক মায়েরাই অভিযোগ করেন, শিশু বুকের দুধ পায় না। এক্ষেত্রে আমরা মায়েদের নিয়ম মেনে বুক দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিই। শিশুকে কোলে নিয়ে ঠিক কীভাবে ধরলে শিশু সহজে বুকের দুধ পাবে সেই বিষয়টি আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা মায়েদের দেখিয়ে দেয়।’
শুধু শিশুকে ঠিকভাবে কোলে নিতে না পারার কারণে অনেক শিশু বুকের দুধ পায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/এইচআই/

লাইভ

টপ