এখনও পুলিশি পাহারায় মিরপুরের সেই বাড়ি

Send
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত : ০৪:১২, আগস্ট ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৫, আগস্ট ১৩, ২০১৮

গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন দুই পুলিশ সদস্যগুপ্তধনের খোঁজে গত ২১ জুলাই রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়িতে খোঁড়াখুঁড়ি করেন ২০ জন শ্রমিক। এদিন ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ারুজ্জামানসহ মিরপুর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা খনন কাজ চলার পরও গুপ্তধনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বাড়িটিতে আদৌ গুপ্তধন আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পেট্রোবাংলা বা ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৩ দিনে আর বাড়িটি স্ক্যান করে দেখা হয়নি। তবে বাড়িটি এখনও পুলিশি পাহারায় রয়েছে।

রবিবার (১২ আগস্ট) সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এর গেটের সামনে দুইজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে আছেন। এরমধ্যে একজন উপ-পরিদর্শক আব্দুল লতিফ ও অন্যজন কনস্টেবল সাব্বির। গেটের ভেতরে পাশের রুমে আরও দুই পুলিশ সদস্য বসে আছেন। তারা হলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোসলেম মিয়া ও কনস্টেবল রফিকুল। গুপ্তধনের সন্ধানে ওই বাড়ির যে দুই কক্ষে খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল, সেই কক্ষ দুটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অন্য কক্ষগুলোও বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।

মিরপুর-১০ নম্বর সি-ব্লকের বাসিন্দা মো. আব্দুল কাশেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই বাড়িতে সত্যিই কোনও গুপ্তধন আছে কিনা আমাদের জানা নেই। লোকমুখে গুপ্তধনের গল্প কয়েকবার শুনেছিলাম।’

স্থানীয় শাহ মান্নান বলেন, ‘প্রশাসন তো খোঁড়াখুঁড়ি করলো, কিন্তু কিছুই পায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, এই গুপ্তধন কি গুপ্তই থেকে যাবে? সেটি কি খুঁজে পাওয়া যাবে না?’

মিরপুর-১০ নম্বরের সি-ব্লকের ১৫ নম্বর বাড়ির দারোয়ান সুরুজ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গুপ্তধনের খবর শুনে আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ ছুটে আসতো, বাড়ির সামনে ভিড় করতো। কিন্তু এখন আর কেউ আসে না।’

ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের এক্সপার্ট ও যন্ত্র (জিপিআর স্ক্যানার) দিয়ে টেস্ট করবো। এর জন্য আজ (রবিবার) ওই বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের সিডিউল পাওয়া যায়নি। আমরা শিগগিই তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে গুপ্তধন আছে কিনা, পরীক্ষা করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে যেটুকু খোঁড়া হয়েছিল, সেটুকুই রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িটি পুলিশের নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।’

গত ৯ আগস্ট অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি-ভূতত্ত্ব) ড. রেশাদ মহম্মদ ইকরাম আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খোঁড়াখুঁড়ির পরে তো আর দেখার কিছুই থাকে না। যেসব জায়গা খোঁড়াখুঁড়ির অনুপযোগী বা ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেষ্টা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের উচিত ছিল ওই বাড়িতে খোঁড়াখুঁড়ির আগেই যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া। কিন্তু সেটা না করে প্রথমেই খুঁড়ে দেখা হয়েছে। এখন খোঁড়াখুঁড়ির পর সেখানে যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের যন্ত্র দিয়ে সেখানে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো ঠিক করেছিলাম। কিন্তু এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়ে গেলো। তখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিকল্পনা করলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষার জন্য ওই বাড়িতে যাওয়া হবে।’

মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আরিফুর রহমান সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই বাড়িটি এখনও পুলিশি নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।’

গত ২১ জুলাই মিরপুর-১০-এর সি-ব্লকের ১৬ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাড়িতে গুপ্তধনের খোঁজে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে প্রশাসন। বাড়িটির মাটির নিচে কমপক্ষে দুই মণ স্বর্ণালংকার আছে –এমন গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে এর সত্যতা নিশ্চিত করতে চালানো হয় এই অভিযান। ওই দিন ২০ জন শ্রমিক ছয় ঘণ্টা ধরে সাড়ে চার ফুট মাটি খুঁড়েন। এরপর বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর দুর্বল হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় খোঁড়াখুঁড়ি স্থগিত করা হয়।

মিরপুর থানা সূত্রে জানা যায়, ১৪ জুলাই বাড়িটির বর্তমান মালিক দাবিদার মনিরুল আলম মিরপুর থানায় একটি জিডি করেন। সেখানে তিনি বলেন, তার বাসার মাটির নিচে গুপ্তধন রয়েছে বলে এলাকার লোকজনের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে। এ কারণে বাড়িটির সামনে প্রতিদিন লোকজন ভিড় করছে। যেকোনও সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ২০১০ সালে সেলিম রেজা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই বাড়ি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কিনেছিলেন মনিরুল আলম। বাড়িতে রয়েছে ৭টি কক্ষ। এরমধ্যে দুটি কক্ষে বাড়ি দেখাশুনার কাজে নিয়োজিত দুইজন থাকতেন। বাকিগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকলেও ৪-৫ মাস আগে তাদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন মালিক। কারণ, বাড়িটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু করা হবে।

/এসজেএ/এমএ/চেক/এমওএফ/

লাইভ

টপ