ভিসি নিয়োগের শর্ত জটিলতায় বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় আইন

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১৮:৪২, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২২, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

এভিয়েশন

বিমান ও মহাকাশ খাতে দক্ষ জনবল বাড়াতে রাজধানীর আশকোনায় স্থাপন করা হচ্ছে দেশের প্রথম এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় নামে এটির প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনের খসড়া নিয়ে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করলেও বিমান বাহিনী চায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কাউকে ভিসি নিয়োগের সুযোগ রেখে আইনটি চূড়ান্ত হোক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বর্তমানে এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে। ভিসি নিয়োগ প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে আইনের খসড়াটি পরিমার্জিত আকারে প্রস্তুত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব জিন্নাত রেহানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জনের প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই চলছে।’

শিক্ষা এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হলে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর নীতিগত অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদনের পর গত বছর ২৪ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাবলিক এভিয়েশন ইউনিভার্সিটি স্থাপনে খসড়া আইন প্রস্তুত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিসহ ইউজিসি ‘বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’ আইনের খসড়া গত বছর ১১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।

খসড়া আইনটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিরীক্ষার সময় কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়। পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইনসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে খসড়াটির পরিমার্জন ও বিয়োজন করে গত ৭ মে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় পুনঃমতামতসহ খসড়াটি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু মূল খসড়া আইন থেকে ভিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বাদ দিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগের প্রস্তাব করে মতামত দেয়। এই প্রস্তাবের বিষয়ে আপত্তি তোলে বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা শাখা। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা শাখা ভিসি নিয়োগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিবের কাছে নতুন প্রস্তাবনা দেয়। প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের বিদ্যমান বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এসব আইনে ভিসি নিয়োগের শর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জড়িত ও অভিজ্ঞ থাকার কথা বলা হয়েছে।  সে হিসেবে বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য করা এই খসড়া আইনে এর ব্যতয় ঘটিয়ে ভিসি পদের যোগ্যতার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিষয়টি জটিল ও সংবেদনশীল। সংবেদনশীল কাজের পরিকল্পনা, নির্দেশনা, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, পাঠদান, প্রশিক্ষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম সুষ্ঠু ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি যুক্ত অর্থাৎ এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবহারিক কাজে অভিজ্ঞ ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা অপরিহার্য।

বিমান বাহিনীর পরিকল্পনা শাখার প্রস্তাবে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে এভিয়েশন ইউনিভার্সিটি আইন এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল এভিয়েশন ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় পুনঃমতামতের সময় ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষককে নিয়োগের প্রস্তাব করে। এতে সংশয় দেখা দিলে তা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আশকোনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ ১২ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। এখানে ২০২৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার একটি নেতৃস্থানীয় ইউনিভার্সিটি হিসেবে বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পস ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলা হবে।

শুরুতে তিনটি ফ্যাকাল্টিতে মোট ১০টি বিভাগ চালু করা হবে। ইতোমধ্যেই বিভাগগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

/জেজে/টিএন/

লাইভ

টপ