শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নের পরামর্শ উপাচার্যদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩১, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

নাহিদযোগ্য শিক্ষক নির্বাচনে নিয়োগপরীক্ষা পদ্ধতি চালু করার মধ্য দিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। এছাড়া শিক্ষকদের যোগ্যতাভিত্তিক পদমর্যাদা দেওয়া এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করারও সুপারিশ করেন তারা। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি/পদোন্নয়ন’ বিষয়ক এক কর্মশালায় তারা এই পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশেষ অতিথি ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ইউজিসি’র সদস্য আখতারুজ্জামান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী। কর্মশালায় ৪০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, এই কথার সংশোধন করে এই পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এছাড়া শিক্ষকদের সিনিয়রিটির বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। না হলে এটি নিয়ে নতুন করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে।‘

শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদন্নতির বিষয়ে কোনও তারতম্য রাখা যাবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের গ্রেড বা পদমর্যাদা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বেতন-ভাতা বাড়াতে দাবি করছি না, তবে আমাদের সম্মানের স্থানটি নিশ্চিত করতে হবে। এরফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ ২০২০ সাল থেকে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতি কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘অভিন্ন নীতিমালায় বাস্তবায়ন করতে হলে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্রার্থীকে ক্লাস নেওয়ার দক্ষতার বিষয়েও পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।’ সে সব শিক্ষক পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন এবং গবেষণা কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের অগ্রধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুস সোবহান বলেন, ‘অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে জিপিএ-৯ করা প্রয়োজন। তবেই ভালো শিক্ষক পাওয়া যাবে।’ তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি-এইচএসসি সার্টিফিকেট মূল্যায়ন না করে অনার্স-মাস্টার্স সাটিফিকেট মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন তিনি।

আব্দুস সোবহান বলেন, ‘অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১০ বছরের চাকরি জীবনে অধ্যাপক হয়ে গেছেন, অনেকে আবার একটি প্রকাশনা দিয়ে বারবার পদোন্নতি পেয়েছেন। তাই শিক্ষকদের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা উচিত।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আকবর বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্স্টাস সমমান পাঁচ বছরের কোর্স সম্পূর্ণ করার কথা বলা হলেও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৫ থেকে ৬ বছর মেয়াদে মার্স্টাস কোর্স করানো হয়।’ তাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি সংশোধন করার আহ্বান জানান এই ভিসি।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘বিজ্ঞান ও মানবিক সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে জিপিএ-৩ দশমিক ৫ চাওয়া হয়েছে।’ এটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর দাবি জানান।

অন্যদিকে, উপস্থিত উপাচার্যদের কেউ কেউ এই অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালার সমালোচনাও করেছেন। তারা বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত চিন্তার স্থানটি হারিয়ে যাবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে। জেলা পর্যায়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে জটিলতা সৃষ্টি হবে। অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালার কারণে উচ্চশিক্ষাকে একটি স্থানে আবদ্ধ হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা হলেও ইউজিসি থেকে তা ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত করতে কিছু বিষয়ে সংশোধন জরুরি।’ শিক্ষকদের পদন্নতির বিষয়ে সংশোধন আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষকদের গ্রেড দিতে হবে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অভিন্ন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মর্যাদা অনুযায়ী ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’ পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানান এই শিক্ষক নেতা।

ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবি ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পচ্ছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। এসব কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা জরুরি। দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে উচ্চ পর্যায়ে নিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের বাস্তবমুখী পরামর্শগুলোকে আমলে নিয়ে তা বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক নিয়োগের একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রস্তুত হয়েছে। এরআগে সবার অভিমত নেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত নীতিমালা করা হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই নিয়মে নিয়োগ ও পদোন্নতি হবে।‘

 

/আরএআর/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ