২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামিদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত: রাষ্ট্রপক্ষ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:২০, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৬, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাভয়াবহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘মামলার আলামত নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপরেও এ মামলার ১৪৪টি আলামত আদালতে প্রদর্শন করা হয়েছে।’  বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে মামলার আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের পাশে গণপূর্তের একটি পুরনো ভবনে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর কার্যক্রম চলছে।

বুধবার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১-এর বিশেষ পিপি আবু আবদুল্লাহ ভুঁইয়া আদালতে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল আদালতের কাছে আইনি ব্যাখ্যা দেন। সর্বশেষ এ মামলার প্রধান পিপি ও সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান আদালতের কাছে আইনি ব্যাখ্যা দেন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী ধার্য তারিখে তিনি তার অসমাপ্ত আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরবেন।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের অপর সিনিয়র আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে এস এম শাহজাহান ও নজরুল ইসলামসহ বেশ ক’জন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনি ব্যাখ্যা শেষে আসামিপক্ষ তাদের চূড়ান্ত আইনি ব্যাখ্যা দেবেন আদালতের কাছে।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আবু আব্দুল্লাহ্ ভুঁইয়া তার যুক্তিতর্কে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক সহায়তা, অপরাধ সংগঠনসহ সব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তিনি বলেন, একটি ডিজাইন বা ছক করে সূদুরপ্রসারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নৃশংস এ হামলা চালানো হয়। এজন্য তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে নিজের যুক্তিতর্ক শেষ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অপর আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল আদালতকে মামলার অধিকতর তদন্ত বিষয়ে বলেন, প্রসিকিউশন আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন।এছাড়া আদালত চাইলেও ন্যায় বিচারের স্বার্থে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। এ মামলায় অধিকতর তদন্তে আইন ও পদ্ধতিগত কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় দফায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যথাযথ আইন ও পদ্ধতি অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।

আইনজীবী শ্যামল আরও বলেন, এ মামলার অন্যতম আসামি পাকিস্তানি জঙ্গি মাজেদ ভাটের স্ত্রী নাহিদ লায়লা কাকন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ এ সাক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতে গিয়েছেন। উচ্চ আদালত বিষয়টি বিচারিক আদালতের হাতেই ন্যস্ত করেছেন। হেয়ারস এভিডেন্স (শোনা সাক্ষী) বিষয়ে শ্যামল বলেন, কাকনের সাক্ষ্য যথার্থ। তিনি এ বিষয়ে রেফারেন্স ও ইন্দিরা গান্ধী হত্যা মামলার অনুরূপ এক সাক্ষ্য উদাহরণ হিসেবে আদালতে তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট মতিঝিল থানার এসআই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-৯৭) দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দু’টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দু’টির কার্যক্রম দ্রুত বিচার আদালত-১-এ স্থানাস্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা),ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন এ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ আরও ৩০জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন আবদুল কাহার আকন্দ। অধিকতর তদন্তে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি।

দুপুর সাড়ে ১২টায় আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বিকাল পৌনে ৩টায় আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য করে মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন।

 

/জেইউ/টিটি/

লাইভ

টপ