মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০৪, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০০, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮

বাংলাদেশ এওটিএস অ্যালামনাই সোসাইটি-বাস (ছবি: সংগৃহীত)বিদেশি কারিগরি বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয় এওটিএস (দ্য অ্যাসোসিয়েশন ফর ওভারসিস টেকনিক্যাল কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেন্যাবল পার্টনারশিপ)। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (এমইটিআই)-এর সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। আর নির্বাচিত উদ্যোক্তা ও পেশাদারদের জন্য প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন বিষয়ে জাপানে প্রশিক্ষণ নিতে সহায়তা করে থাকে এওটিএস থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নিয়ে গঠিত ও পরিচালিত বাংলাদেশ এওটিএস অ্যালামনাই সোসাইটি (বিএএস-বাস)। পাশাপাশি সংগঠনটি ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক অব ফ্রেন্ডশিপ (ডব্লিউএনএফ) নামে একটি বিশেষ স্কিমের অধীনে দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী বিনিময়ে সহায়তা করে।


প্রতিষ্ঠালগ্ন (১৯৬৮ সাল) থেকে ৪ হাজারের অধিক প্রশিক্ষণার্থী বাস-এর সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য খাতে অবদান রাখছে বলে জানান বাস’র কার্যকরী কমিটির সদস্য সৈয়দ আহসানুল আপন। তিনি বলেন, ‘স্কলারশিপের মাধ্যমে জাপানে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর পাশাপাশি দেশে ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ সুবিধা দিতে কাজ করছে বাস। জাপান থেকে যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা মিলে গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশ এওটিএস অ্যালামনাই সোসাইটি (বিএএএস বা বাস)। বাস’র উদ্যোগে দেশে ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ-জাপান প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের (বিজেটিআই) কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা। ঢাকার সোনারগাঁও রোডের ইস্টার্ন প্লাজার ৮ম তলায় (কক্ষ নম্বর ৩১-৩২) বাস’র অফিস। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’

সৈয়দ আহসানুল আপন বলেন, ‘আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং দেশের জনসংখ্যার বিবেচনায় জাপানি পদ্ধতিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রাসঙ্গিক এবং অপরিহার্য। জাপানি পদ্ধতি অনুসরণকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে গুণমান ও উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে সফল হয়েছে। অতএব, ব্যবস্থাপনা ও গুণগত দিক দিয়ে জাপানি দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তার বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে উপকৃত করবে। তাই, এটি নিশ্চিত করার জন্য বিএএএস-এর কর্মক্ষমতা নির্মাণ প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য সংস্থান এবং সুবিধাদি অপরিহার্য। ৯ সদস্যের একটি পরিষদ বিজেটিআই-এর পরিচালনায় তত্ত্বাবধান করে। একজন প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজেটিআইর প্রতিদিনকার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০২১ সালের মধ্যে বিজেটিআইকে ‘উৎকর্ষতার কেন্দ্র’তে রূপান্তর করাই চূড়ান্ত লক্ষ্য। যেখানে জাপানি ব্যবস্থাপনা ও কাটিং-এজ টেকনোলজি কোর্স, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স এবং আঞ্চলিক কর্মসূচিসমূহ পরিচালনা করা হবে।’

বিজেটিআইর কার্যক্রম:

১. প্রধানত জাপানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ ও সেমিনার পরিচালনা।

২. ফাইভএস, কাইজেন, টিকিউএম, টিপিএম, লিনম্যানুফ্যাকচারিং, করপোরেট নেতৃত্ব, সময়ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রকল্পব্যবস্থাপনা, সাপ্লাই চেইনব্যবস্থাপনা, আয়কর এবং ভ্যাটব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যাংকিং প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতি, বিপণন ও বিক্রয় কৌশল, মৌলিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পেশাগত স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা, অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে স্পেশাল ও শর্ট কোর্স।

৩. ইন-প্লান্ট ট্রেনিং কোর্স।

৪. আন্ডার-গ্রাজুয়েট এবং পোস্ট-গ্রাজুয়েট কোর্স এবং আঞ্চলিক কর্মসূচিসমূহ।

৫. জাপানি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এশিয়ার অন্যান্য দেশের সম্মিলন ঘটানো।

সৈয়দ আহসানুল আপন জানান, আগামী ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী ৫০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন করবে বাংলাদেশ এওটিএস অ্যালামনাই সোসাইটি (বিএএএস-বাস)। রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে এটি অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান। ১৬ সেপ্টেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

/এনআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ