পরিচ্ছন্নতায় ডিএসসিসির বিশ্বরেকর্ড কতদূর

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৮:০৫, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

গত ১৩ এপ্রিল ডিএসসিসি ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিপরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়তে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিচ্ছন্নতায় বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে গত ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তিতে ডিএসসিসি ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ নামে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করলেও রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ১৫ হাজার ৩১৩ জন। বিশ্বরেকর্ড গড়তে এজন্য দরকার ছিল পাঁচ হাজার ৫৮ জনের রেজিস্ট্রেশন।

ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারতের আহমেদাবাদের কাছের একটা শহরে ৫ হাজার ২৬ জনকে নিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করার মাধ্যমে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করার একটি রেকর্ড রয়েছে। সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতায় জনগণকে সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ডিএসসিসি মনে করেছে, ভারতের ওই শহরে যে সংখ্যক মানুষকে নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করে বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়েছে, সেই সংখ্যার চেয়ে বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাদের রয়েছে। এ অবস্থায় নিজেদের কর্মীদের দিয়ে অভিযান চালানো হলেও রেকর্ডটি ভাঙা সম্ভব। এর বাইরে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে উপস্থিত করে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে। এজন্য বাংলা নববর্ষের বিদায়কালে এ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করে ডিএসসিসি।
কর্মসূচিতে ডিএসসিসির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা সংস্থা, স্কুল-কলেজ, সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের কর্মীসহ সাধারণ নগরবাসী অংশগ্রহণ করেছেন। রেজিস্ট্রেশনকালে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেওয়ার জন্য সবার হাতে একটি করে ঝাড়ু, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক দেওয়া হয়। ঝাড়ুর সঙ্গে একটি বারকোড ও হাতে নির্দিষ্ট যন্ত্রবিশেষ দেওয়া হয়। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ ড্রোন, স্যাটেলাইট ও লাইভ ভিডিওসহ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উপস্থিতি গণনা করে। ওইদিন সকাল ৯টায় এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
কর্মসূচি পালনকালে উপস্থিতির সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৮ জন অতিক্রম করার পরপরই সাঈদ খোকন বলেছিলেন, ‘ঢাকাবাসী, আমরা রেকর্ড ভেঙেছি। এই রেকর্ড জাতির জনক বঙ্গবন্ধুক শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করলাম। এই রেকর্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছি, ঢাকাবাসী পরিষ্কার নাগরিক।’
এ সময় তিনি রেকর্ড গড়ার ঝাড়ু সবাইকে বাসায় নিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে তুলে রাখার অনুরোধ জানান। কিন্তু কর্মসূচির ৫ মাস অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি মেলেনি। তবে ডিএসসিসি এজন্য রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশকে দোষারোপ করছে।
ডিএসসিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কর্মসূচির পর রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ সিটি করপোরেশনের কাছে কিছু বিল এবং দাবি-দাওয়া জানিয়েছিল। কিন্তু ডিএসসিসি মেয়র তাদের সাফ জানিয়ে দেন, স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের কোনও কথা শোনা হবে না। কারণ, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতির কথা বলেই এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল। এখন যদি স্বীকৃতিই না মেলে তাহলে পুরো উদ্যোগই ব্যর্থ। এজন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।’
তিনি দাবি করেন, ‘সম্ভবত ডিএসসিসি থেকে কিছু আদায় করার জন্যই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্বীকৃতির প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছে।’
জানতে চাইলে রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ -এর মার্কেটিং ডিরেক্টর সৈয়দ তানজিম রেজওয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সব নিয়ম অনুসরণ করেই আমরা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি সাবমিট করেছি। কিন্তু তাদের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এখনও আমরা সাড়া পাচ্ছি না।’
ডিএসসিসির দায়িত্বশীল অপর একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যতদূর জানি কর্মসূচির পুরো বিষয়টি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এর বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন। আমরা যে সংখ্যক লোক গণনা করেছি, কর্মসূচিতে তারচেয়ে বহুগুণ লোক উপস্থিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশ্ন রেখেছে। পরে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কর্মসূচিতে রেজিস্ট্রেশনের বাইরে যেসব লোক হাজির হয়েছেন তাদের গণনায় ধরা হয়নি।’

/ওআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ