পরিবর্তনশীল বিশ্বে হুমকির মুখে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ০৬:১৪, অক্টোবর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪, অক্টোবর ১০, ২০১৮

বিশ্বব্যাপী ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের মেধা, মনন ও চিন্তায় আসছে পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লাগছে তরুণদের মানসিক জগতে। যে কারণে পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ (ডাব্লিউএফএমএইচ)।
সংস্থাটির তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন  করে কিশোরী মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। এ ছাড়া মানসিকসহ বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনায় তরুণদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে আত্মহত্যা প্রবণতা। আর  এ আত্মহত্যার ঘটনার ৭৮ ভাগই ঘটছে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে। নিজের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে, গলায় ফাঁস দিয়ে অথবা শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মঘাতী হচ্ছেন তরুণরা।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছরের মতো আজ ১০ অক্টোবর সারা বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য’ বিষয়টিকে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও তরুণদের মানসিক জগতে চলছে নানা উত্থান-পতন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা পরিবর্তনের প্রভাবে এদেশের বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীই মানসিকভাবে উদভ্রান্ত, পর্যুদস্ত কিংবা নানা ধরনের পরিস্থিতির শিকার। তাদের মানসিক  সমস্যা প্রকাশ পায় তাদের আচরণের মধ্য দিয়ে। যানবাহনে হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে যাওয়া, বন্ধুদের সামান্য বিদ্রুপ বা কৌতুকও সহ্য করতে না পারা, যখন তখন চেঁচামেচি, সুযোগ পেলে কাউকে আক্রমণ করা ইত্যাদি ধরনের ঘটনাগুলো তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা.হেলাল উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে। পরিবর্তনের পেছনে অনেকগুলো টার্নিং পয়েন্ট রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর পৃথিবী থেকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক পৃথিবী পর্যন্ত আসতে এসব টার্নিং পয়েন্ট ভূমিকা রেখেছে। এসবের কারণে আজকের পৃথিবীতে ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনে মানুষের মেধা-মননে-চিন্তার পরিবর্তন হচ্ছে। এই চিন্তার পরিবর্তনগুলো তার আচরণকে পরিবর্তন করছে। আর  তরুণদের মধ্যে এই পরিবর্তনের ধাক্কাটা সবচেয়ে বেশি। এর ফলে তাদের মন বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে এবং তারা জর্জরিত হচ্ছেন নানা মানসিক রোগে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিইএইও) ২০১৩-২০২০ সালের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, যেকোনও দেশের নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে মানবাধিকারের লঙ্ঘন না করা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো জরুরি। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আইনের উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের অধিকারকে সম্মান দিতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে এ রকম মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

এদিকে ডাব্লিউএফএমএইচ’র গবেষণা বলছে বর্তমান সময়ে ৮৩ ভাগ তরুণের মতে, বুলিং (মানসিক বা শারীরিকভাবে হেনস্তা)-এর শিকার হওয়ার কারণে তাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে দ্য ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ জানায়- তরুণদের মানসিক জগতকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনাগুলো। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এই বুলিংয়ের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া মাদকাসক্তির প্রভাব ও আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির বিষয়টিও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিষন্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিজঅর্ডার ইত্যাদি সমস্যাও তরুণ-তরুণীদের মনে প্রভাব ফেলছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য দিবসটি পালন করা হবে। আলোচনা সভা,  র‍্যালি ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য দিবসটি উদযাপন করা হবে।

/টিটি/টিএন/

লাইভ

টপ