গ্রেনেড হামলা মামলা: যেসব পুলিশ-গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাজা হলো

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৬, অক্টোবর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৯, অক্টোবর ১০, ২০১৮

সাজাপ্রাপ্ত-পুলিশ-ও-গোয়েন্দা-কর্মকর্তাদের-ছয়জনদেশের বিচারের ইতিহাসে এই প্রথম পুলিশের সাবেক তিন আইজি ও দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাজা হয়েছে। এরমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। বুধবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় এসব কর্মকর্তাদের সাজা দেন।

সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হককে দণ্ডবিধির ২১২ ও ২১৭ ধারায় দোষী সাবস্ত করে প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক দক্ষিণের ডিসি ও পরে ডিআইজি খান সাঈদ হাসান, ডিএমপির সাবেক পূর্বের ডিসি মো. ওবায়দুর রহমান খানকে ২১২ ও ২১৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাদের। এছাড়া, ২০১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে আরও দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ২১২ ও ২১৭ ধারায় দেওয়া সাজা একযোগে কার্যকর হবে বলেও আদালতের আদেশে বলা হয়।

সাবেক আইজিপি খোদাবক্স চৌধুরী, সিআইডি কর্মকর্তা ও এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এ এস পি (অব.) মো. রুহুল আমিন, এ এস পি (অব.) আব্দুর রশিদ, এ এস পি (অব.) মুন্সী আতিকুর রহমানকে দণ্ডবিধির ২১৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং প্রত্যেকেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এসব কর্মকর্তাকে ৩৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২১৮ ও ৩৩০ ধারায় দেওয়া কারাদণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে বলেও আদেশে বলা হয়।

ডিজিএফআই-এর সাবেক কর্মকর্তা ও খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিনকেও ২১২ ও ২১৭ ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অন্যদিকে, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিমকে দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০/বি ও ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদলেণ্ড দণ্ডিত করেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশও দেন আদালত। এছাড়াও ৩০৭, ১২০/বি ও ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও একবছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার এসব কর্মকর্তাকে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেন। বিবেচনায় আদালত বলেন, অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ চালানোর সুবিধার জন্য ও অপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার অপরাধ।

প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত সংরক্ষণযোগ্য তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পরও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে এবং আদালতের অনুমতি না নিয়ে অপরাধীদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করার ও  আলামত নষ্ট করায় অপরাধ।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূল আসামিদের সহায়তা করার লক্ষ্যে আসামিদের নির্বিঘ্নে টনাস্থল ত্যাগ করতে ও পরবর্তী সময়ে আসামিদের অপরাধের দায় থেকে বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ।

প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাদের রক্ষা করার জন্য প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় বা দোষ চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার অপরাধ।

/জেইউ/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ