আত্তীকরণ ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন ২ হাজার শিক্ষক!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৪১, অক্টোবর ১৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪১, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

 

আত্তীকরণ বঞ্চিত শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনসরকারি কলেজের শিক্ষক হলেও আত্তীকরণ বঞ্চিত অবস্থায় অবসরে যেতে হচ্ছে প্রায় দুই হাজার শিক্ষককে। গত ৩১ জুলাই কলেজ শিক্ষক আত্তীকরণ নীতিমালায় ঘোষণা দেওয়া হয়— ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট যাদের বয়স ৫৯ বছর পেরিয়ে গেছে, তারা সরকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন না। তবে বঞ্চিত শিক্ষকদের দাবি,২০১৬ সালের ২৮ জুন কলেজ সরকারিকরণ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই তারা আত্তীকরণের প্রক্রিয়ায় আছেন। অথচ তাদের আত্তীকরণ করা হচ্ছে না। চাকরির শেষ সময়ে এসে এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি ও আর্থিক সুবিধার দাবি জানিয়েছেন এই শিক্ষকরা।

এসব শিক্ষক সম্প্রতি সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কমিটিও গঠন করেছেন। ২০১৬ সালের পর থেকে সরকারি হওয়া কলেজগুলোর ঊনষাটোত্তর শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়। দাবি আদায়ে গঠিত কমিটির সদস্যরা জানান, অন্তত সরকারি শিক্ষক হিসেবে তাদের অবসর সুবিধা দেওয়া হোক।

বঞ্চিত কয়েকজন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি করে কলেজ সরকারি করার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পর গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২৯৯টি বেসরকারি কলেজ সরকারি করা হয়েছে। যদিও এই প্রক্রিয়া শেষ হয়নি অনেক কলেজের। সরকারি করা কলেজগুলোর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও অনেক কলেজেরই শিক্ষকদের আত্তীকরণ করা হয়নি।

এই কলেজগুলোর শিক্ষক আত্তীকরণ চলাকালে গত ৩১ জুলাই কলেজ শিক্ষক আত্তীকরণের জন্য জনবল কাঠামো ও আত্তীকরণ নীতিমালা জারি করে সরকার। ওই নীতিমালায় বলা হয়— ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট যাদের চাকরি ৫৯ বছর অতিক্রম করেছে, তাদের নিয়োগ গ্রহণযোগ্য হবে না।  

এ অবস্থায় বঞ্চিত শিক্ষকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। শিক্ষকরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২০১৬ সালের ২৮ জুন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই বছরের ৩০ জুন সরকারিকরণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় ২৭০টি কলেজের ওপর। এরপর বিভিন্ন সময় আরও কলেজ সরকারি করা হয়। সরকারি হওয়া ২৯৯টি কলেজের অনেক শিক্ষকের বয়স ৫৯ বছর পার হয়েছে। বেসরকারি চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর হওয়ার কারণে কলেজগুলোতে এখনও দুই হাজার শিক্ষক চাকরি করছেন। তাদের আত্তীকরণ ছাড়াই আর কয়েকমাস চাকরি করে বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে বিদায় নিতে হবে।

ঊনষাটোত্তর শিক্ষক সংগঠনের আহ্বায়ক মোতালেব শেখ এবং সদস্য সচিব নূর ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৮ জুন সরকারিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২৭০টি কলেজের। ওইদিন পর্যন্ত যাদের ৫৯ বয়স ছিল তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দাবিদার। আমরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছি।’

চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ঊনষাটোত্তর) মোস্তাফ জামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৮ জুন সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওইদিন থেকে কলেজের নিয়োগ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ‘ডিড অফ গিফট’ সম্পন্ন হয় ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। অথচ এখন বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর যাদের বয়স ৫৬ বছর অতিক্রম করেছে, তারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন না। আমাদের দাবি, ২০১৬ সালের ২৮ জুন যেসব কলেজের সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাদের ওইদিন থেকে হিসাব শুরু হওয়া উচিত। ওইদিন পর্যন্ত যাদের বয়স ৫৯ হয়নি, তাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য। আমরা সরকারি হওয়া সব কলেজের ক্ষেত্রেই প্রক্রিয়া শুরুর দিন থেকে এই হিসাবে সুযোগ-সুবিধা চাই।’

 

/এসএমএ/আইএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ