রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে বসবে সিসি ক্যামেরা

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১০:৪৬, নভেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৩, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

নোংরা জায়গায় রাখা হয়েছে মুরগির মাংসনিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বেশ ভালোভাবেই নড়েচড়ে বসেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে অক্টোবর মাসজুড়ে চলেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। রাজধানীর অনেক নামিদামি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেছে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর। এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রোস্তোরাঁগুলোর নোংরা পরিবেশ পাল্টাতে এবং খাবারের মান বজায় রাখতে এখন থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রান্নাঘরে সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, অক্টোবর মাসের পরিচালিত অভিযানের মধ্যে মিরপুর ইয়ান তাই রেস্টুরেন্ট, পিজ্জার চেইন শপ পিজা ইন, শ্যামলি লিংক রোডের প্রিন্স রেস্টুরেন্ট, চিলিজ রেস্টুরেন্ট, ধানমন্ডির জিনডিয়ান রেস্টুরেন্ট, হান্ডি,  ভাগ্যকুল মিষ্টি, ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের ক্যালিফোর্নিয়া ফ্রাইড চিকেন (সিএফসি) উল্লেখযোগ্য।

এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চলাকালে দেখা গেছে, বেসিনে একইসঙ্গে সব ধরনের মাংস এবং সবজি ছেড়া পলিথিনে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। ময়লা আবর্জনাযুক্ত থালা-বাসন ধোয়ার জায়গা, মেয়াদোত্তীর্ণ মাশরুম (নিজেরাই মেয়াদের তারিখ বসিয়েছে), পচা আনারস, ফাঙ্গাস পড়া গাঁজর কেটে ধোয়া হচ্ছে। থালা-বাসন পরিষ্কার করা হচ্ছে বেসিনে পানি জমিয়ে। ফ্রিজে খোলা অবস্থায় রযেছে নুডলস ও নাড়িভুঁড়িসহ মুরগির মাংস। এছাড়া, আরও  দেখা গেছে, মুরগির মাংস কেটে নিচে রাখা হয়েছে,পাশে রয়েছে ময়লা পরিষ্কার করার দুটি ঝাড়ু।রেস্তোরায় ব্যবহৃত বাসি তেল

অভিযান প্রসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুষার আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই অভিযান চলতে থাকবে। নভেম্বর মাসেও ১০টি অভিযানের প্ল্যান করা আছে। এছাড়া, আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, তাদের বর্তমান অবস্থা দেখার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে। দ্বিতীয়বার যদি দেখা যায়, অবস্থা আগের মতোই— তাহলে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। এরপরও না মানলে প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাইরের পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ভেতরের কী অবস্থা। কোনও মিল পাওয়া যায়নি। রান্নাঘর কীভাবে পরিষ্কার রাখবে তারা হয়তো জানে। কিন্তু এবিষয়ে তারা উদাসিন। অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য হলো— তাদেরকে এই বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া। নভেম্বর মাসে ১০ দিন অভিযানের প্ল্যান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ দিন নতুন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাবো, বাকি দুই দিন আগে অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাবো। তাদের বলে দেওয়া হয়েছে কী কী করতে হবে। তাদের একটা নির্দেশনা তালিকা আকারে আমরা দিয়ে এসেছি। তারা কতটুকু সেই নির্দেশনা মানলো, সেটা আমরা দেখবো।’  

অন্যদিকে খাবারের রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁগুলোতে স্টিকার ব্যবস্থা প্রণয়ন ব্যবস্থার কথা আগেই জানিয়েছিল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান, তোপখানা,সচিবালয়ের আশপাশের খাবারের হোটেলগুলোতে সবুজ ,হলুদ এবং লাল স্টিকার লাগানোর মধ্যদিয়ে শুরু করতে যাচ্ছে নিরাপদ খাবারের গ্রিন জোন ব্যবস্থা। সেখানকার সব হোটেলের রান্নাঘর বাইরে থেকে দৃশ্যমান করা হচ্ছে। এছাড়া থাকছে রান্নাঘরে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে বাইরে দৃশ্যমান জায়গায় মনিটর করার ব্যবস্থা এবং এটা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এরপর ঢাকার  ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুর, উত্তরা, বনানী এবং গুলশান এলাকায় গ্রিন জোন ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও জিইসির মোড় এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ জোন শুরু করা হবে।  মেয়াদোত্তীর্ণ তেল, সস ও অন্যান্য সামগ্রী 

নতুন এ ব্যবস্থায়  সবুজ, হলুদ ও লাল রঙের স্টিকারই নির্ধারণ করে দেবে— রেস্তোরাঁ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত। ফলে একজন ভোক্তা সহজেই স্বাস্থ্যসম্মত রেস্তোরাঁর সন্ধান পাবেন। ‘গ্রিন জোন ব্যবস্থা’র প্রধান শর্ত হবে— রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা। এজন্য রান্নাঘরে স্বচ্ছ কাচ ব্যবহার করতে হবে, যাতে ভোক্তা বাইরে থেকে ভেতরের পরিবেশ দেখতে পারেন। এছাড়া, হাত ধোয়ার জায়গা থেকে বাথরুমের অবস্থান, সাবান ও তরল সাবানের পৃথক ব্যবহার, রেস্তোরাঁ পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম, তোয়ালে বা ন্যাকড়ার পরিবর্তে টিস্যুর ব্যবহার, খাবার পরিবেশনকারী ও প্রস্তুতকারীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অন্যতম। এসব শর্তের সবক’টি পূরণ করতে পারলেই কেবল কোনও রেস্তোরাঁ পাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের হলোগ্রামযুক্ত সবুজ স্টিকার। সেটি রেস্তোরাঁর সামনে লাগানো থাকবে। কোনও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। সে সময় পর্যন্ত রেস্তোরাঁর সামনে লাগানো থাকবে হলুদ স্টিকার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে রেস্তোরাঁটিকে লাল স্টিকার দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। 

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রিন জোন প্রকল্পের আওতায় কিছুদিন আগে মালিকদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এখন চলছে হোটেলের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। মালিক সমিতির প্রতিনিধিও এই প্রশিক্ষণে প্রতিদিন উপস্থিত থাকছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য এবং অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৪ দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। সবাইকে রান্নাঘর দৃশ্যমান করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই— হয় কাঁচ, অথবা সিসি ক্যামেরা এবং মনিটর। সচিবালয়ের দুটি ক্যান্টিন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিচে এবং বিশতলা বিল্ডিং এর নিচে পর্যটনের হোটেল, তারা প্রস্তুত হচ্ছে। পর্যটনের হোটেলে সিসি ক্যামেরা এবং মনিটর বসানো হয়েছে। ঢাকা শহরে এরইমধ্যে যেসব হোটেলে মোবাইল কোর্ট বসানো হয়েছে, সবগুলোকে একমাসের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। গ্রিন স্টিকার পাবার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলে স্থায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি হবে চলমান প্রক্রিয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিচেন দৃশ্যমান করা ছাড়া কোনও খাবার দিয়ে হোটেল (রেস্তোরাঁ) চালানো যাবে না। সিলগালা করে দিলে কোনও তদ্বিরে কাজ হবে না। আমরা আমাদের কাজ করে যাবো।’

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ