ক্যাথলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নীতিমালা হচ্ছে

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ০৬:৫৮, নভেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৪, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

দেশের খ্রিস্টান ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত ক্যাথলিক (মিশনারি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আলাদা নীতিমালা করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমিতির চাহিদার ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আলাদা একটি নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে অনুমোদন হলে নীতিমালা প্রস্তুত করবো। এছাড়া তাদের আরও যেসব প্রস্তাব রয়েছে সেগুলোও সমাধান করা হবে।’
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খ্রিস্টানদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমিতি নীতিমালাসহ ১০ দফা দাবিতে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি আবেদন জানান। আবেদনের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে ওই বছর ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের জন্য আর্চবিশপ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রস্তাব দেবেন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবেন। কিন্তু এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনও আদেশ বা পরিপত্র জারি না করায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন।
খ্রিস্টানদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গত ৬ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ ক্যাথলিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আর্চবিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাননের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ক্যাথলিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি আলাদা নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে আগের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, খ্রিস্টানদের পরিচালিক শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোর সমিতির পক্ষে নীতিমালা করার প্রস্তাবের পর গত ৩১ আগস্ট দেশের সব উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে খ্রিষ্টানদের পরিচালিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য চায় মাউশি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকের সংখ্যা, প্রতিষ্ঠানের জমির পরিমাণ, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের ধরন, এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের দুরত্ব ও এমপিওভুক্ত হলে তারও তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের। এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে সাত কর্মদিবসের মধ্যে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পরিচালিত এক হাজার ২০০ কিন্ডারগার্টেন, ২০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭০টি জুনিয়র হাইস্কুল, ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, ১৫টি ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুইটি ডিগ্রি কলেজ এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) ড. আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “খ্রিস্টান ধর্মীয় জনগোষ্ঠী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে একটি নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি, একটি সুন্দর নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে পেশ করতে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিবিধানের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ‘ক্যাথলিক (মিশনারি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহ পরিচালনা সংক্রান্ত নীতমালা’ চূড়ান্ত করা হবে।’
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, চালু ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত ১৯৯৭ সালের নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশ ক্যাথলিক শিক্ষা বোর্ড- এর আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রেজিস্ট্রি করা এবং স্বীকৃতি পাওয়া। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি সম্পর্কিত ২০০৯ সালের প্রবিধানের ৪৯ ধারায়- ক্যাথলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোনও নীতিমালা নেই।

আরও পড়ুন: ক্যাথলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে চায় সরকার


/ওআর/

লাইভ

টপ