চাইলেই বদলি হতে পারছেন না বেসরকারি শিক্ষকরা

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ২০:০৯, নভেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১২, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

বেসরকারি শিক্ষক (ফাইল ফটো)ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলঞ্চা গ্রামের অধিবাসী মো. জাবেদ আলী। বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি চাকরি নেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। এখন বদলি নিয়ে নিজ গ্রামে যেতে চান। তবে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য আলাদা নীতিমালা না থাকায় বদলির সুযোগ হয়ে ওঠেনি তার।
তবে নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বদলির কথা থাকায় নিজ গ্রামের একটি স্কুলে বদলি হতে চান তিনি। কিন্তু বদলির জন্য আলাদা নীতিমালা না থাকায় তা পারছেন না।
বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ‘বদলির আলাদা নীতিমালা নেই, তাই আপাতত বদলিও নেই বেসরকারি শিক্ষকদের।’
চলতি বছর ১২ জুন জারি করা বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বদলির ব্যবস্থা রাখে সরকার। ‘বেসরকারি শিক্ষকদের সরকার বদলি করতে পারবে’ এমন কথাও বলা হয় জনবল কাঠোমো ও এমপিও নীতিমালায়। এই নীতিমালা জারির পর গত সেপ্টেম্বরে বদলির জন্য আবেদন জানান এই শিক্ষক। বদলির ব্যবস্থা নিতে সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিবের কাছে আবেদন জানান মো. জাবেদ আলী।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, শিক্ষকদের স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াসহ প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির কথা বলা হয়েছে নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায়। কিন্তু বদলির জন্য আলাদা নীতিমালা হয়নি গত পাঁচ মাসেও।
বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বদলি করার মতো জনবল ও অবকাঠামো আমাদের তৈরি হয়নি। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বদলির কথা বলা হলেও এখনও বদলির জন্য বিধি-বিধান বা আলাদা নীতিমালা নেই। এছাড়া নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে বদলি নীতিমালা করার সময় পায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব কারণে বদলি কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।’
মন্ত্রণালয় ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা জারির পর শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই বদলির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এরই মধ্যে শিক্ষকরা মন্ত্রণালয়ে বদলির জন্য আবেদনও করেছেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বগৈড় বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) মো. জাবেদ আলী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর একটি বদলির আবেদন করেন। তার নিজের গ্রামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে চেয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলঞ্চা গ্রামে এই শিক্ষকের বাড়ি।
মো. জাবেদ আলী বদলির আবেদনে বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষক দেশের যেকোনও জেলায় বদলি হতে পারবেন। নীতিমালা জারির জন্য আমরা যারা দূরের বিভিন্ন জেলায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি তারা কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাসের তথ্য চাইলেও শিক্ষক বদলির আবেদনের ব্যাপারে কোনও নির্দেশনা নেই। আমি আমার বলঞ্চা গ্রামের এনএসি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি হতে ইচ্ছুক।’
মো. জাবেদ আলী তার আবেদনে সচিবকে আরও জানান, কর্মরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যে বিদ্যালয়ে তিনি যাবেন দুই প্রতিষ্ঠান তার বদলির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বদলি হতে পারছেন না। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরবর্তী এমপিওভুক্তির বিষয়টি কীভাবে সম্পন্ন হবে তাও জানতে চেয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ‘অনেক শিক্ষকের বদলির ইচ্ছা থাকলেও আলাদা নীতিমালা না থাকায় শিক্ষকরা এ সুযোগ পাচ্ছেন না। মন্ত্রণালয় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আওতায় আলাদা নির্দেশনা জারি করলে বদলির জন্য শতশত আবেদন পড়বে।’
মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বদলির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক যে অনিয়ম হয়, তা কমে যাবে। শিক্ষকরা স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তাও বন্ধ করা সহজ হবে। প্রভাবশালী শিক্ষকরা অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেও তা মেনে নিয়ে চাকরি করতে বাধ্য হন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি অত্যন্ত শক্তিশালী। এর সুযোগ নিয়ে এবং দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকার কারণে অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেন। এতে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির ব্যবস্থা চালু হলে এসব সমস্যা অনেকাংশেই কমে যাবে।
এসব বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) ড. আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি করার মতো আমাদের লোকবল ও অবকাঠামো নেই, তা যেমন সত্য, তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমাদের প্রস্তুতি নেই। প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবে।’

/ওআর/

লাইভ

টপ