‘নারীর সাফল্যে পুরুষের গৌরব’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:২৬, নভেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৭, নভেম্বর ১০, ২০১৮

সফলতার পথ নারীকেই বেছে নিতে হয়, কিন্তু সে জন্য এগিয়ে আসতে হয় পুরুষদেরও। তাই নারীর সফলতার গল্পের প্লট কখনও পুরুষ ছাড়া হয় না। নারীর সফলতায় তাই সমানভাবে গৌরবান্বিত হন পুরুষও। এমন সব গল্পের সম্ভার ‘হার স্টোরিজ’।  

‘আই অ্যাম চেঞ্জ’ শ্লোগানে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট – ২০১৮’-এর দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে প্রকাশিত হলো এর দ্বিতীয় সংখ্যা। একইসঙ্গে অ্যানড্রয়েড  প্ল্যাটফর্মে উন্মোচন করা হয় ‘হার স্টোরিজ’ অ্যাপ্লিকেশনটি।

ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন (৯ নভেম্বর) এই সেশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক খালেদা শাহরিয়ার কবির, সায়েবা’স মেথডের আবিষ্কারক অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, ব্যাপ্টিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলের শিক্ষিকা নমিতা হালদার এবং জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া তুলে ধরেন তাদের সফলতার ইতিহাস। সেশনটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক নবনীতা হালদার।

প্রথমেই খালেদা শাহরিয়ার তার কথা শুরু করেন। বাংলাদেশে নারীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব তিনি। ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম  নারী শিক্ষার্থী। বুয়েটে ভর্তি হতে পেরোতে হয় তাকে অনেক বিপত্তি। এত সংগ্রামের পরও পড়াশোনা শেষে তিনিই ছিলেন মতিঝিল এলাকায় প্রথম নারী চাকরিজীবী। এই গল্প ১৯৬৯ সালের।

সায়েবা’স মেথডের আবিষ্কারক সায়েবা আক্তার কথা বলেন তার দুঃসাহসী এক অভিযানের অভিজ্ঞতা নিয়ে। সেই অভিযান এখনও চলছে। তখন তিনি গাইনি বিভাগের প্রধান। প্রসব-পরবর্তী জরায়ুর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা  যান অনেক মা।  জন্মনিরোধ পদ্ধতির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত কনডম দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন তিনি, যা ‘সায়েবাস মেথড’ নামে পরিচিত। এ সাফল্যে সারাবিশ্বে হইচই পড়ে যায়। অনুন্নত দেশগুলোতে বর্তমানে এই সহজ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে প্রসব-পরবর্তী মায়েদের জীবন হারানোর শঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়াও তিনি দীর্ঘ সংগ্রাম করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোলেন ফেস্টুলা সেন্টার। কর্মজীবন থেকে অবসরে যাওয়ার পর নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মামস ইন্সটিটিউট অব ফেস্টুলা’।

আর দশজন সাধারণ নারীর মতো শিক্ষিকা নমিতা হালদার বড় হতে পারেননি। শৈশবেই শিকার হন এসিড সন্ত্রাসের। মারাত্মক দগ্ধতার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু থেমে যাননি একদমই। অদম্য জীবনীশক্তির অধিকারী এই নারী পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং এখনও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন অসংখ্য দৃষ্টিশক্তিহীন শিশুদের মাঝে। ব্যাপ্টিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে সারাদিন শিশুদের সঙ্গে তার সময় কাটে। ব্রেইলে অনুবাদ করেছেন অসংখ্য বই।

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার বিয়ে হয় সাত বছর বয়সে, বিধবা হন ১৪ বছরে। এর পরের দিনগুলো ছিল খুব কঠিন। তবে এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ ছিল না তার। একতারা হাতে নিয়ে তিনি পাড়ি দিয়েছেন এক দেশে থেকে আরেক দেশে। গান গেয়ে পেটের ভাত জুটিয়েছেন, মিটিয়েছেন মনের খিদে। স্মৃতি রোমন্থনের একপর্যায়ে সাধের একতারাটা নিয়ে গলা ছেড়ে গান ধরেন তিনি। সুরের মূর্ছনায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান দর্শকেরা।

অ্যানড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ‘হার স্টোরিজ’ উন্মোচন শেষে বীরাঙ্গণা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর গল্প শোনানোর মাধ্যমে ইতি টানা হয় চমকপ্রদ এই সেশনের।

 

 

/এইচআই/এফএএন/

লাইভ

টপ