বাংলাদেশ শুধু ‘বাংলা’র দেশ না

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:০৯, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৬, নভেম্বর ১০, ২০১৮



ঢাকা লিট ফেস্টের শেষ দিন শনিবারের প্রথম প্রহরে ভাষার বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলতে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান মঞ্চে ওঠেন কবি কামাল চৌধুরী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ আলী এবং ভাষা গবেষক সৌরভ শিকদার। এ আলোচনার সূত্রধর ছিলেন গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গর্গ চট্টপাধ্যায়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এবং লিঙ্গুইস্টিকস সার্ভে অব বাংলাদেশের যৌথ গবেষণায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২০ ভলিউমের ভাষা বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ। বক্তারা মূলত সেই জরিপ নিয়েই আলোচনা করেন।
আলোচনায় কবি কামাল চৌধুরী ভাষা বিষয়ক পূর্ববর্তী গবেষণার সীমাবদ্ধতার দিকে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় নৃগোষ্ঠীর ভাষার বিভিন্ন সংখ্যা উঠে এসেছে। ফলে আসল সংখ্যাটি জানা দুষ্কর বলা চলে। যেমন, পিটারবাটুলির গবেষণায় ১২টি নৃ-ভাষা পাওয়া যায়, এরপরের গবেষক সামাদের গবেষণায় আরও কিছু ভাষা যুক্ত হয়। সর্বশেষ এশিয়াটিক সোসাইটির একটি গবেষণা ও জরিপে ৪৫টির মতো নৃ-ভাষা পাওয়া যায়।
ভাষাবিজ্ঞানী সৌরভ শিকদার বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণার কার্যপরিধি নিয়ে। তিনি বলেন, দেশের প্রথম সংকট ভাষাবিজ্ঞানীর অভাব, তথ্যের অভাব এবং সর্বপোরি অর্থের অভাব। ভাষা বিষয়ক গবেষণায় অর্থাভাব আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, পুরো গবেষণাটি প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতে হবে। আর এটিও মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে শুধু বাংলা ভাষার দেশ নয়।
বক্তাদের আলোচনায় গবেষণার হালহকিকত উঠে আসে। এই গবেষণায় প্রতিটি নৃ-ভাষা ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন। তবে যোগাযোগের অভাবটাই ভাষা বিষয়ক গবেষণার প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় ভাষা সংগ্রহের জন্য যাতায়াতটি দুষ্করই ছিল। এখানে গবেষকরা অনেক নতুন অনেক ভাষাও আবিষ্কার করেন। তাদের আলোচনায় যোরো ভাষার কথা উল্লেখিত হয়। যে ভাষার ব্যবহারকারীদের বয়স ৭০ বছরের বেশি।
ভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ আলী বলেন, কোনোভাবেই ভাষাকে হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। প্রথমে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ চলছে। পরে চর্চা ও প্রসারের ব্যবস্থা করা হবে।
সবশেষে উপস্থাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এ ধরনের একটি গবেষণায় আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম উপকৃত হয়। ভাষা আসলে কল্পনার মাধ্যম, তাই একটি ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে মানব সমাজের পৃথিবীকে দেখার একটি দৃষ্টিকোণ হারিয়ে যায়।
আলোচকরা সবাই বাংলার বাইরে দেশের অন্য ভাষাভাষী শিশুরা যাতে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ পায়, তেমন ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।


 

/এফএএন/এইচআই/

লাইভ

টপ